সব ধরনের ভাল বাসার গল্প পেতে এই ব্লগটি সব সময় ভিজিট করেন
সব ধরনের SMS পেতে ও এইখনে ভিজিট করেন
Showing posts with label Mix Story. Show all posts
Showing posts with label Mix Story. Show all posts

ভালোবাসার বৃষ্টি




-- "তোকে খুব মিস করছি রে সেঁজুতি।"

-- "আমিও ভীষণ মিস করছি।কেমন আছিস তুই?"

-- "আমার আর থাকা।তোর কি অবস্থা বল?"

-- "তুই এমন হয়ে গেলি কেন বল্‌তো ?"


-- "পাঁচ বছর আগের দীপকে কি আর আগের মত পাবি... সবেতো চার দিন হলো দেখছিস।"

-- "হুম...আচ্ছা শোন্‌ ,তুই এখন আর লেখালেখি করিসনা তাইনা?জানিস তোর সেই ডায়েরিটা এখনও আমার কাছে আছে।আমায় নিয়ে আবোল তাবোল কত কি লিখতিস।কিন্তু খুব সুন্দর করে,গুছিয়ে।"

-- "ধুর পাগলি একটা।এত ঢং এখন আর ভাল লাগেনারে।এখন বাজারে কোন কোম্পানির কলম চলছে তাই জানিনা,আবার লেখালেখি।"

-- "তাহলে পড়াশোনা ছেড়েই দিয়েছিস?"

-- "পারলে একেবারেই ছেড়ে দিতাম,কিন্তু মাকে আর কষ্ট দিতে ইচ্ছে করেনা যে।"

-- "ঐ যে বললি কলম চিনিসনা।"

-- "হা হা হা...তুই কিন্তু আগের মতই আছিস।ঘাপটি মেরে থাকতি আমার ভুল ধরার জন্য।কালির দোয়াত নিয়ে যাই ভার্সিটিতে,বুঝলি?আচ্ছা এখন ফোন রেখে ঘুমা,কাল ক্লাস আছেনা?তোর কান একেবারে ঝালাপালা করে দিয়েছি।"


****আমার রাত জাগা তারা,
তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়,
আমার একলা লাগে ভারি।****

অনিন্দ সাহেব কি গান করলেন,কথাগুলো রাতদুপুরে শুধু মাথায় ঘোরে,বড্ড জ্বালায়।ভাই গাইবেন ভাল কথা,আর একটু কম দরদ দিয়ে গাইতে পারলেন না !!! তাহলে রাতে একটু ঘুমোতে পারতাম,শান্তির ঘুম...কতকাল ঘুমোইনা......।

ভালই হয়েছে তোকে আবার ফিরে পেয়েছি। রাতগুলো বেশ কেটে যায় মুখবইতে(Facebook,আমি উনাকে এই নামেই ডাকি) তোকে নিয়ে গবেষণা করে। জানিস তোর লিখাগুলো আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। তোর ছবিগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে দেখি। কত বড় হয়ে গেছিস,তাও আবার ভার্সিটিতে পড়িস। তুই অনেক সুন্দর হয়েছিস,একেবারে ডানাকাটা পরী। আর তুই কিন্তু দারুন লিখিস। লাইক বাটনে ক্লিক করব করব করেও করিনা। কত কি যে বলতে চাই,কিন্তু বলতে পারিনা। কেন যে পারিনা...তোকে খুউউউউব ভালোবাসি সেঁজুতি। এই কথাটাও মুখ থেকে বের হয়না। আমি আর আগের আমি নেইরে। হঠাৎ করেই তোকে খুঁজে বের করলাম। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সেন্ড করার পর থেকে ভেতরে কেমন জানি হাতুড়ি পেটা আওয়াজ হচ্ছিল। একবার মনে হলো ক্যান্সেল করে দেই,আবার ভাবলাম দেখিনা কি হয়। জানিস মিনিটে মিনিটে ঢু মারতাম তুই একসেপ্ট করেছিস কিনা দেখার জন্য। অবশেষে করেছিস একদিন পর,সাথে বিশাআআআল এক ম্যাসেজ। কত অভিযোগ,কত অনুযোগ। "এতদিন কোথায় ছিলাম,আমায় কত খুঁজেছিস কিন্তু পাসনি"...এই সেই আরও কত কি । পাবি কিভাবে,সব রাস্তাতো বন্ধ। যে প্রযুক্তির কল্যাণে তোকে পেয়েছি তাকেও তো আমি শাসন করে রেখেছি "পাবলিক সার্চ অফ" নামক ঝাড়ি দিয়ে। তারপর অনেকটা জোর করে আমার নাম্বার নিলি,আমাকেও তোরটা দিলি। এরপর থেকে শুধু কথা আর কথা...তোর কথা শুনে আমার ভোর হয়,আবার রাতের আকাশ দেখি তোকে শুনতে শুনতে। আজ যেমন রাত শেষে এই কাকডাকা ভোরে ফোনের অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছি।অবশেষে মনে হলো আমার কথা।আমিও যথারীতি শুরু করলাম দুইটা শব্দ দিয়ে...

-- "হ্যাঁ বল।"

-- "শুভ সকাল।"

-- "শুভ সকাল মিস সেঁজুতি,আজ ক্লাসে গেলিনা?"

-- "নাহ যাইনি। শোন,আজ আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবি?"

-- "হুম পারব কখন,কোথায় বলিস।"

-- "ঠিক আছে, আমাকে চিনতে পারবিতো?"

-- "সেটাওতো কথা,,,তোর চেহারা হয়ত ভুলেই গিয়েছি।এখন রাখিরে,কাজ আছে।"(বুঝিরে,আমার ওপর তোর অনেক অভিমান...তাই বলছিস চিনব কিনা।)


***বিকেল ৪.০০ টা***

ঝকঝকে রেস্টুরেন্টে ঢুকেই গায়ে শীতল বাতাসের ঝাপটার সাথে খুব পরিচিত একটা ঘ্রান এসে যেন ধাক্কা দিল আমায়। এদিক ওদিক খুঁজে চোখ গিয়ে আটকালো কর্নারের টেবিলে। দূর থেকে দেখে মনে হলো ছোট্ট একটা পুতুল বসে আছে। ধীর পায়ে পুতুলটার কাছে যেয়ে পাশে বসলাম। এই সেই চেনা ঘ্রান,কতকাল পাইনা। কিছু বলতে পারছিনা,সেঁজুতিও চুপ হয়ে আছে। যেন নির্বাক চলচিত্র। নীরবতা ভেঙ্গে আমিই বললাম,

-- "কি খাবি বল।"

-- "তোর যেটা ইচ্ছা।"

ওয়েটারকে ডেকে খাবারের অর্ডার দিচ্ছি আর আড়চোখে সেঁজুতিকে দেখছি । ও অবাক হয়ে দেখছে,হয়ত ভাবছে আমি এখনও তার পছন্দের খাবারের কথা মনে রেখেছি। আবার মৌনতা ভেঙ্গে বললাম,

-- "তারপর বল তোর so called বাবার কি অবস্থা?"

-- "so called বাবা মানে?"

-- "মানে তোর বাবার কথা জিজ্ঞেস করেছি,,,যাই হোক বাদ দে,তোর কথা বল।"

-- "তুই কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস কেন?"

-- "বাব্বা আগের মতই অভিমানী আছিস,আইসক্রিম খাবি বুড়ি?"

-- "তুই কি ভেবেছিস তুই-ই শুধু বদলে মহামানব হয়ে গেছিস?আর আমি আগের মত বুদ্ধু আছি,আমাকে রাগিয়ে তারপর আইসক্রিম দিলেই গলে যাব।"

-- "এত রাগিসনা বুড়ি,তোকে পেত্নির মত লাগছে।দেখি তোর গালটা একটু টেনে দেই। শোন বুড়ি,,।"

-- "হুম,বল।"

-- "এ কদিন ধরে কথা বলছি,একবার ও তো ভাইয়া বলে ডাকলিনারে।"

কথাটা বলে নিজেই কেঁপে উঠলাম,পাগলিটার চোখে চোখ রাখতে পারছিনা। এত কাঁদছে কেন ও?? ও নাহয় কাঁদছে কিন্তু আমিতো পাথর আমার আজ কি হলো। হঠাৎ আমাকে জাপটে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করল। আমার ছোট্ট পুতুলটাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছি,আর ছাড়বনা তোকে।হারিয়ে যেতে দিবনা।কান্না জড়ানো কণ্ঠে আর অস্ফুট স্বরে আমায় বকেই যাচ্ছে।

-- "ভাইয়া তুই আর মা আমাকে একা ফেলে কিভাবে চলে গেলি?"

-- "তোর বাবা তোকে খুব ভালবাসে তাই তোকে ছাড়েনি,মা কিইবা করতে পারত বল?"

-- "আমার বাবা তোর কিছুনা?"

-- "না,আমার কিছুনা। ঐ লোকটা আমার মাকে ঠকিয়েছে।"

পাগলিটা কেঁদেই যাচ্ছে। আমি যে এক হতভাগা,ছোট বোনের চোখের জলও মুছতে পারিনা।তাই বুঝি সৃষ্টিকর্তা আমার ওপর সদয় হয়েছেন। এক পশলা বৃষ্টি নামিয়েছেন আমার বুড়িটার চোখের জল ধুয়ে দিতে...

-- "টুনটুনি বাইরে তাকিয়ে দেখ । বৃষ্টি নেমেছে,কেন জানিস?তোর অশ্রু ধুয়ে দিতে। চল ছোটবেলায় হারিয়ে যাই।"

মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে,আমার হাতটা শক্ত করে ধরে আমাকে বাইরে নিয়ে এল। আমার পাগলি ছোট্ট পুতুল বোনটার সাথে বৃষ্টিতে ভিজছি। জীবনটা এক মুহূর্তে এত্ত সুন্দর হলো কিভাবে...বৃষ্টি,,তুমি আরো জোরে ঝাপিয়ে পড়ো,আমাদের ভালোবাসার বৃষ্টি হয়ে...

একটি সাধারণ স্বপ্ন...


আমার একটা স্বপ্ন ছিল, খুব সাধারণ একটা স্বপ্ন । স্বল্প আয়ের একটা চাকরি, ছোট্ট একটা ঘর, অল্প সুন্দরী মায়াবতী  একজন স্ত্রী, ছোট্ট একটা ছেলে অথবা মেয়ে ।

আমার সন্তান...সরি, আমার সন্তান বললে আবার বাচ্চার মা রাগ করতে পারে !

আমাদের সন্তান একটু একটু করে বড় হবে আর আমি তাকে একটু একটু করে জীবন শেখাবো ।


অফিস থেকে ফিরে এসে অনেক রাত পর্যন্ত বাবুকে বুকের উপর নিয়ে আমি খেলা করতে থাকব । বাবুর মা এত রাত পর্যন্ত বাবুকে জাগিয়ে রেখেছি বলে আমাকে ধমক দিয়ে বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে দিবে । বাবু ঘুমিয়ে গেলে আমি আর বাবুর মা বারান্দায় বসে অল্প স্বল্প গল্প করবো ।
বাড়ি ভাড়া দিতে হবে, বাবুকে স্কুলে ভর্তি করতে হবে, ঘরে বাজার নেই, বাবার ওষুধ কিনতে হবে, মা কে ডাক্তার দেখাতে হবে – এই সব নিত্য প্রয়োজনীয় কথার ভিড়ে হয়তো হাতে হাত রেখে কোন ভালবাসার কথা বলাই হবে না । তাই বলে ভালবাসা কমে যাবে তা কিন্তু না। ভালবাসা জেগে থাকবে অনুভবে, হৃদয়ে ।
পরিপূর্ণ একটা হৃদয় নিয়ে অভাব দূরীকরণের উপায় ভাবতে ভাবতে একটা সময় আমি আমার ছোট্ট ঘরে ভালবাসার কিছু মানুষের সাথে ঘুমিয়ে যাব ।

খুব সাধারণ একটা স্বপ্ন । কিন্তু এই স্বপ্নের সাথে একদিন একটা মানুষ জড়িয়ে গেল ।

আমি অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম আমার সন্তানের মায়ের জায়গাটা সে কিভাবে যেন দখল করে ফেলেছে । আমি কাউকে কখনও এভাবে আমার স্বপ্নের সাথে জড়াতে চাই নি । কারণ তাতে করে আমার ছোট্ট স্বপ্নটা অপূর্ণ থাকার একটা ঝুঁকি থাকে । আমি কোন জটিলতায় যেতে চাই নি । কিন্তু মন তো আর সবসময় কথা শোনে না । অবচেতন মন মিলিয়ে মিলিয়ে তাকেই আমার স্বপ্নের সাথে জড়িয়ে ফেলল ।

আমি অদ্ভুত ভাবে খেয়াল করলাম তাকে ছাড়া বা তাকে বাদ দিয়ে আমি আর স্বপ্নটা দেখতে পারছি না । আমি নিজের অজান্তেই অবচেতন মনের পেতে রাখা ফাঁদে ধরা দিলাম ।

কোন এক কারণে আমার স্বপ্ন পূরণ হল না, তাকে নিয়ে আমার দেখা এই স্বপ্ন পূরণ হবার কথাও ছিল না কোনদিন । তারপরও আশা করেছিলাম সৃষ্টিকর্তার কৃপার উপর । কিন্তু স্বপ্নটা অপূর্ণই থেকে গেল । এই অপূর্ণতার মাঝেই সৃষ্টিকর্তা হয়তো কোন বৃহত্তর মঙ্গল দেখেছিলেন ।

স্বপ্নটা পূরণ না হওয়াতে আমি খুব আশাহত হলাম । বেঁচে থাকাটাকে অর্থহীন মনে হতে লাগল । আমি স্বপ্নহারা মানুষ, কিভাবে বেঁচে থাকব ?

মানুষ তো তার স্বপ্নের উপর ভর করেই বেঁচে থাকে, তাই না ?

খুব ভালোভাবে বুঝতে পারলাম মানুষের স্বপ্ন কখনও ছোট হতে নেই । যে স্বপ্ন সহজেই পূরণ হওয়া সম্ভব, সে স্বপ্ন না দেখাই ভাল । কারণ সেটি পূরণ না হলে যে মন কে সান্ত্বনা দেবার মত কিছুই থাকে না । তাই স্বপ্ন দেখতে হয় অনেক বড়, যে স্বপ্ন পূরণ করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, যে স্বপ্ন পূরণ না হলে ভাগ্যকে ইচ্ছেমত গালমন্দ করে মন কে বোঝানো যায় ।

সাধারণ স্বপ্ন দেখা তাই পাপ, অন্যায় ।
স্বপ্ন হতে হয় অসাধারণ, অনেক বড় ।
যে স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে ছোট্ট এই জীবনটা অনায়াসে পার করে দেয়া যায় ।