সব ধরনের ভাল বাসার গল্প পেতে এই ব্লগটি সব সময় ভিজিট করেন
সব ধরনের SMS পেতে ও এইখনে ভিজিট করেন
Showing posts with label Romantic Golpo. Show all posts
Showing posts with label Romantic Golpo. Show all posts

একটু একটু ভাল লাগা... তারপর শুধুই ভালবাসা


কলেজের প্রথম বছর ছিল… পরিচয় হল… বন্ধুত্ব হলো… ভাল লাগলো… তারপর প্রেম নিবেদন…
তারপর শুধুই ভালবাসা| নাহ্! এত নিরামিষ ছিল না আমাদের গল্প| এত নিরামিষ হলে
হয়তো এভাবে সাতটা বছর পার করে দিতে পারতাম না দুজনে|



সেই সাত বছর আগের কথা… কিছুদিন হলো কলেজে ভর্তি হয়েছি| হঠাৎ অপরিচিত কারো একটা
ই-মেইল নজরে পরলো| খুব সহজ একটা ধাঁধা লেখা ছিল ই-মেইলে| সাথে একটা মোবাইল
নাম্বারো ছিল, আর লেখা ছিল যদি ধাঁধার উত্তর জানা থাকে তাহলে যেন সেই নাম্বারে
পাঠিয়ে দিই| ধাঁধার উত্তর লিখে পাঠিয়ে দিলাম আর জানতে চাইলাম তার পরিচয়, তবে ই-
মেইলের উত্তর ই-মেইলেই… মোবাইলে দিয়ে নিজের মোবাইল নাম্বারটা একটা অপরিচিত
মানুষকে দিয়ে বিপদে পরবো নাকি!!?? কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম ছেলেটা আমার
সেকশনেরই! কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না কে সেই শাখামৃগ যে আমাকে এত
দুশ্চিন্তায় ফেলে দূরে বসে মজা নিচ্ছে!!?? পরে জানতে পারলাম যার দিকে কখোনো
চোখই পরেনি, যার নামটাও কখোনো জানা হয়ে ওঠেনি ছেলেটা সেই… সানিয়াত… সানিয়াত
মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন|


বন্ধুত্ব হলো… খুব ভাল বন্ধুত্ব হলো… রাতে মোবাইলে কথা না বললে চলতোই না… ধীরে
ধীরে কখোন যে বন্ধুত্বটা দুর্বলতা হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না! হয়তো নিজেকে বা
ওকে বুঝতে দিতে চাইতাম না অনুভূতিটা| ভয় হতো… যদি বন্ধুত্বটাই হারিয়ে ফেলি!?
তবু মনের মাঝে কোন এক কোণায় হালকা ব্যথা অনুভূত হতো, যখোন ও ঐ সেকশনেরই সবচেয়ে
সুন্দর মেয়েটার কথা বলতো| হালকা ব্যথা বললে বোধহয় ভুল হবে… আগুনের একটু আঁচ
লাগলেই যেমন জ্বলা শুরু করে… আমারো তখোন ভেতরটা জ্বলতো! একটা কথা আছে না… “বুক
ফাটে তাও মুখ ফোটেনা”… ঠিক ঐ রকম!


জানুয়ারী ২০০৫ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫… আমাদের বন্ধুত্ব আরো গাড়ো হলো… আমাদের ছোট
খাট পছন্দ অপছন্দ শেয়ার করা হলো| যদিও আমাদের ক্লাসমেটদের ধারণা আমরা তখোন
থেকেই প্রেম করি| ধারণাটা আরো গাড়ো হয়েছিল যখন ও ক্লাসের একটা ছেলেকে আমাকে
উত্তক্ত করার জন্য ঝাড়ি দিয়েছিল| ধারণাটা নি্শ্চিত সন্দেহের রূপ নেয় যখন আমি ওর
হাতে কলেজের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে একটা চিঠি ধরিয়ে দিই| চিঠিতে কি লিখেছিলাম মনে
নেই, তবে সেটা কোনো প্রেমপত্র ছিল না এটা নিশ্চিত… সেটা ছিল ওর ওপর আমার
অভিমানের বহিঃপ্র্রকাশ মাত্র| ও আমাকে এখন প্রায়ই বলে চিঠিতে নাকি অসংখ্য বার
আমি লিখছলাম “আমি তোমার খুব ভাল Friend হিসেবে বলছি…”| সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিলো...
চিঠিটা ওর পকেটে ছিল... বৃষ্টিতে আমার চিঠিটা নাকি ভিজে একাকার|তার কিছুদিন পর
আমি আমার ২য় বর্ষে কলেজ বদলিয়ে ফেললাম| ফিরে গেলাম আমার স্কুলেরই কলেজ শাখায়|
তারপর আমার মোবাইল হারিয়ে গেল… সাথে ওর নাম্বারটাও| সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ|
মাঝেমাঝে ই-মেইল Check করতাম… যদি ও কিছু পাঠায়… কিন্তু দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই
পেতাম না| নিজেকে সান্তনা দিতাম… এই বুঝি ভাল হলো… Out of sight, out of mind!


পর্ব : ২



জানুয়ারী ২০০৬ থেকে ২০০৬ ডিসেম্বর… এর মাঝে অনেক উত্থান পতন হয়েছে দুজনেরই…
এসেছে কিছু পরিবর্তন… ৪ বছর বয়স বেড়েছে… কলেজ শেষ হয়েছে… ২০০৭ এর জানুয়ারী থেকে
আমি মেডিকেল ছাত্রী হয়েছি আর ও হয়েছে ইঞ্জিনীয়ার ছাত্র| তখনো মাঝেমাঝে ই-মেইলCheck
করতাম… হঠাৎ ২৯ জানুয়ারী ২০০৭ একটা ই-মেইল নজরে পরলো… from Md. Sarwer
Hossain| আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না| ই-মেইলটা ওর নতুন Address থেকে
পাঠিয়েছিল ওর Contact list এর সবাইকে| আমি আর সবাই এক হলাম!? এই ভেবে আর Reply
করা হলোনা| তারপর ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ আরেকটা ই-মেইল এলো| ই-মেইল পড়ে প্রথমে খুব
রাগ হলো… কারণ as usual সেখানে আমাকে Jealous করানোর মত কথা লেখা ছিল| ই-মেইলের
শেষ লাইন গুলো ছিল এরকম “SunSi dr ri porteSo khubi valo. amr amma Sune khub
khuSi hoiSe. kau dr hoiSe Sunle amma khuSi hoya jay, amder aaSe paSe Sob to
enginr tai. ajk to monehoy tmr bondo. ok valo thako.... bye… connection
raikho amak vuila gaSo ? ? ! ? ! ! ! ?” তখন কেন জানি আর রাগ করে থাকতে পারলাম
না… reply একটা করেই দিলাম| তারপর আবার শুরু হলো যোগাযোগ| ও যেমন আমাকে প্রায়ইJealous
করানোর মত কথা বলতো আমিও ওকে সব সময় Jealous করার চেষ্টা করতাম… কিন্তু ওর কোনো
প্রতিক্রীয়াই ছিলনা! খুব রাগ হতো আমার!



২০০৮ এর ১৩ ফেব্রুয়ারী… আমি ওকে “Yahoo!” তে Chat-এ বেশ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“আচ্ছা, তোমার কাল কি কোনো Programme আছে?” ও বললো, “নাহ্, কাল কি Programme
থাকবে? কেন থাকবে?” আমি বললাম, “তাহলে আমরা কি কাল TSC-তে দেখা করতে পারি?” আমি
ভেবেছিলাম ও “না” বলবে| কিন্তু ও বললো “হ্যাঁ”!! বলে আমার বিপদ বাড়িয়ে দিল|
প্রচন্ড রকমের ভয় ভর করলো মাথায়| এতই ভয় আর উত্তেজনা পেয়ে বসলো আমায় যে আমার
হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের সাথে যে ওর মোবাইল নাম্বারটাও যে হারিয়ে গিয়েছে সেটাও
ভুলে গিয়েছিলাম| আর হঠাৎ করে ওর নাম্বারটাও কিছুতেই মনে পড়ছিল না| কিন্তু
ততক্ষনে আমরা Sign out করে ফেলেছি| হঠাৎ মনে পরলো একটা ডায়রীতে ওর নাম্বার লিখে
রেখেছিলাম, কিন্তু কোনো লাভ হলোনা… ডায়রীটা খুঁজে পেলাম না| তাই ১৪ ফেব্রুয়ারী
২০০৮ TSC যাওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বইমেলার মানুষের ভীরে আমরা দুজন দুজনকে
খুঁজে পেলাম না| পরদিন “Yahoo!” তে ও আমাকে নাম্বার দিল… ঠিক হল ১৭ ফেব্রুয়ারী
দেখা করবো| আবারো সেই ভয় আর উত্তেজনা পেয়ে বসলো আমায়|



১৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৮… তখন আমি হোস্টেলে থাকতাম| TSC গেলাম… একমাস ব্যাপি বইমেলা…
প্রচন্ড মানুষের ভীর| আমি পৌঁছেই ওকে ফোন দিলাম… ও কাছেই কোথাও ছিল… ৫ মিনিট
অপেক্ষা করতে বললো| এই ৫ মিনিটে আমার ভয় ক্রমোশ বেরেই চললো| মাথায় কত চিন্তা ভর
করলো! এই প্রথম আমি আর ও কোথাও এভাবে দেখা করতে যাচ্ছি… কতদিন পর দেখবো ওকে… ২
বছরের বেশি… ও কি পাল্টে গেছে… নাকি সেই আগের মতই আছে… ওকে চিনতে পারবো তো বা ও
আমাকে চিনতে পারবে তো!? এরকম কত ভয়…! তারপর অতি প্রতিক্ষীত ৫ মিনিট শেষ হলো…
দূর থেকে দেখেই চিনতে পারলাম ওকে| নাহ্! খুব বেশি পাল্টায়নি ও… তবে একটু মোটা
হয়েছে… মোটা বললেও ভুল হবে… স্বাস্থ্যটা একটু ভাল হয়েছে| ও কাছে এলো… আসার পর
আমি কিছুতেই ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না| ভয় অথবা লজ্জা… কিছু একটা কাজ করছিল|
লজ্জা পাচ্ছিলাম হয়তো লজ্জা নারীর ভূষণ বলে, আর ভয়… কারণ… ও যদি বুঝে ফেলে আমার
দুর্বলতা! সন্ধ্যা ৭.৩০ টা পর্যন্ত ছিলাম ওর সাথে| ও ওর স্বভাব সুলভ খুব নরমাল
আচরণ করছিল, আর আমি খুব চেষ্টা করছিলাম নরমাল হওয়ার… কিন্তু ব্যর্থ চেষ্টা! ও
আমাকে রিকশায় করে হোস্টেলে পৌঁছে দিয়ে গেল| হোস্টেলে ফেরার পর থেকে শুধু মনে
হচ্ছিল ও কিছু বুঝলো না তো!!?? সত্যিই তাই… ও সেদিন বুঝে গিয়েছিল… কিন্তু ও
আমাকে বুঝতেই দেয়নি যে ও বুঝতে পেরেছে|






একদিন কথায় কথায় মনে পড়লো আমি ওকে কলেজে থাকতে জোড়া ডলফিনের একটা শো-পিস Gift
করেছিলাম| লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম… কি নির্লজ্জ মেয়েরে বাবা আমি! ও বললো ওটা নাকি
তখনি ওর Friend দের বিশেষ কৌতুহলের কারণে দুই টুকরা হয়ে গিয়েছিল| সাথে সাথে
আমার মনটাও দুই টুকরা হয়ে গেল| তারপর ও বললো সেটা নাকি ও আঠা দিয়ে জোড়া
লাগিয়েছে… তখন থেকে সেটা ওর Aquarium এ শোভা পাচ্ছে| এই কথা শোনার পর আমার মন
তো জোড়া লাগলোই… মনে হলো কোথা থেকে যেন হালকা একটা হাওয়া স্বজোরে একটা দোলা
দিয়ে গেল| মনে হলো… তাহলে কি ওর ও মাঝে দুর্বলতাটা কাজ করে!!?? তারপর থেকে আবার
শুরু হলো আমার “Mission : Making Him Jealous”| এবার বোধহয় কাজ হলো…



৩০ জুন ২০০৮… নাহ্! ১ জুলাই ২০০৮… ৩০ জুন ২০০৮ রাত ১২টার পর… সকালেই আমারAnatomy Prof Written exam|
ও আমাকে চমকে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “অনু, তুমি কি কোনো কারণে আমার প্রতি Weak?”
যার সত্যিকার অর্থে মানে ছিল, “অনু, তুমি কি আমাকে ভালবাসো?” আমি কি উত্তর দিবো
ভেবে পাচ্ছিলাম… আমার কি বলা উচিত যে আমি শুরু থেকেই Weak!!?? আমি বললাম… “কি
হবে জেনে? তোমার কাছে আমার সব Problem এর Solution  আছে, কিন্তু এই উত্তরের
কোনো Solution নেই”| ও বললো… “বলেই দেখো… থাকতেও তো পারে”| আমি বললাম… “হ্যাঁ,
আছে তোমার কাছে কোনো Solution?” ও বললো… “এভাবেই চলতে থাকি… কপালে থাকলে হবে”|
নিজেকে খুব ছোট মনে হলো… মনে হলো “হে ধরণী! তুমি দ্বিধা হও, আমি তোমার ভেতর
প্রবেশ করি”!


পর্ব : ৩



ভাবলাম এবার বুঝি বন্ধুত্বটাও হারালাম! ভাবলাম আমার ধারণা বোধহয় ভুল ছিল|
কিন্তু না কিছুই শেষ হয়নি| ও খুব সহজেই যেকোনো ব্যপার সহজ করে ফেলতে পারে| আমরা
আবার আমাদের চিরাচরিত Friendship-টাকেই ধরে রাখলাম|

২০ অগাস্ট ২০০৮… পরীক্ষা শেষে বাসায় আসলাম| ঐদিন রাতেও ১২টার পর ফোনে কথা হলো|
হঠাৎ ও আমাকে বললো, “আচ্ছা অনু, ঐ যে ঐ টা একটু বলোতো”| আমি বললাম, “কি বলবো?”
ও বললো, “ঐ যে তুমি যেটা Feel করো… ঐ যে কি যেন বলে না একজন আরেকজন কে”| আমার
বুঝতে বাকি রইলো না যে ও আমাকে দিয়ে কি বলাতে চায়! ওর মুখে আমার নামের উচ্চারণ
শুনলেই তো আমার কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়… আমি  সেখানে একটা মেয়ে হয়ে কিভাবে ওকে
এই কথাটা বলি!? আমি অনেক “না না” করলাম পর… অনেক ঢং করলাম …ও আমাকে বললো, “বলো
না একটু শুনি, দেখি কেমন লাগে!?” সব লজ্জার ডোর ছিড়ে বলেই ফেললাম… “I love
you”… এত speed এ বলেছিলাম যে নিজেই বুঝতে পারিনি যে ও বুঝলো কিনা! বলেই ওকে
কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন রেখে দিলাম| সেই রাত অনেক লম্বা ছিল… ঘুম-ই আসলোনা
!



২৩ অগাস্ট ২০০৮… রাত ১২টার বেশি বাজে… অর্থাৎ ২৪ অগাস্ট ২০০৮… খুব ভয়ে ভয়ে
লজ্জায় লজ্জায় ওর ফোন ধরলাম| আবারো ও শুনতে চাইলো… এবারো অনেক ঢং করার পর বললাম…
এবার ও শুনতে চাইলো পর পর তিনবার… আমিও লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলে দিলাম| মনের
ভেতরটায় অদ্ভূত একটা ব্যথা অনুভব করলাম এই মনে করে যে “তুমি কি একবারও বলবা না?”
আমি যখন এই চিন্তায় মগ্ন তখন আচমকা কানে বেজে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর… “অনু, তুমি
আমাকে মারবা!” জানিনা কোথ্থেকে এক ফোঁটা অশ্রু চোখের কোণে আশ্রয় নিল| ভাবলাম…
তাহলে কি ফুরালো আমার তিন বছর ছয় মাসের অপেক্ষার প্রহর? আমি যখন আবারো ভাবনায়
মগ্ন তখন আবার আচমকা কানে বেজে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর… “ANU, I LOVE
YOU”…………………………………… মনে হলো আমার কর্ণ কপাট ভেদ করে সুমধুর সুর প্রবেশ করলো|
মনে হলো কেউ আমায় প্রেমের অমৃত সুধা গলধিকরণ করালো| আর সেই কেউ… আমার সানিয়াত
মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন|


এখন ও আমাকে মাঝে মাঝে বলে, “তখনই (কলেজে পড়ার সময়) তোমার weakness টা সামনে
আনতা, তাহলে আর এতদিন একা থাকতে হতো না… অবশ্য আমারই দোষ… আমি তখনই লাই দিলে
তখনই এটা সামনে আসতো|” ওকে jealous feel করানোর কথা উঠলে বলে, “আমি তো জানতাম
তুমি কি চাইতা... আর জানতাম বলেই jealous হতাম না আর তুমি আরো বেশি জ্বলতা… খুব
মজা লাগতো!” ফাজিল কোথাকার!


তারপর কত ঝড় ঝাপটা গেল… দুজনের পরিবারে জানাজানি হলো| ওর মা-বাবা খুব সহজেই
মেনে নিলেন| আর আমার মা-বাবা ছিলেন প্রচন্ড প্রেম বিরোধী ছিলেন| কিন্তু আমরা
কোনোভাবেই হাল ছাড়িনি| আমরা জানতাম, আমার বাবা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসেন… তাই
তিনি অপরিচিত একজনের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে ভয় পাচ্ছিলেন| মা-বাবা ওর সাথে দেখা
করলেন… কথা বললেন… Impressed হলেন|


তারপর আর কি! তারপর…. এক সাথে পথ চলা… মাঝে মাঝে একটু একটু ভালবাসার ঝগড়া…
তারচেয়েও অনেক অনেক বেশি… সবকিছুর ঊর্ধে শুধুই আমাদের ভালবাসা|

বৃষ্টিকথন


আমি প্রাণপন চেষ্টা করছি, আমার চোখে যেন পানি না আসে। বৃষ্টি নামের সার্থকতা বজায় রাখার জন্য হুটহাট চোখে বর্ষন ঘটানো আমার ভীষন অপছন্দের একটা কাজ। তাছাড়া এত তুচ্ছ ব্যপারে বসে বসে কান্না করার মত বাড়তি সময়ও আমার নেই। কিন্তু একটু আগে যে ঘটনাটা ঘটলো সেটা মনে করেই আমার গা রি রি করছে। মামী সুযোগ পেলেই আমাকে এভাবে অপমান করে। মাঝে মাঝে মনে হয় এখানে না থেকে কারো বাসায় কাজটাজ করে খাই। এমনিতেও এ বাসায় আমি বুয়া ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু আমার সব ইচ্ছার মত এই ইচ্ছাটাও আমি বুকে চেঁপে রাখি। এটা অবশ্য ভয়ংকর ধরনের ইচ্ছা, তবে আমার অনেক নিরীহ ইচ্ছাও আমাকে বুকে চেঁপে রাখতে হয়।


যেমন একটু আগে মামীকে কয়েকটা কঠিন কথা শোনাতে খুব ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু ইচ্ছেটা চেঁপে যেতে হয়েছে। নীচে বসার ঘরে রবিন ভাইয়ের বন্ধুরা এসেছে। মামী আমাকে ওদের চা বানিয়ে দিতে বললো। চা বানাতে আমার কোন আপত্তি নেই, কিন্তু সমস্যা হলো সেই চা নিয়ে আমাকেই নীচে যেতে হবে। আর এই ব্যপারটায় আমার অনেক আপত্তি আছে।

ছেলেগুলোকে ঠিক মানুষের পর্যায়ে ফেলা যায়না। এদের দেখলেই আমার পেট মোটা কুৎসিত মাকড়শার কথা মনে হয়। মাকড়শা যেমন জাল বুনে শিকারের জালে আটকা পড়ার অপেক্ষায় থাকে, এরাও তেমনি অপেক্ষায় থাকে। পার্থক্য হলো এরা শুধু মানুষ শিকার করে, তাদের নোংরা কুতকুতে চোখগুলো দিয়ে।

আমি মামীকে শুধু বললাম, আমি যাবোনা। তার উত্তরে মামী যে ক’টা বাক্য বলেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভদ্র্র বাক্যটা হল, “আমার শরীর দেখে এদের মধ্যে কেউ যদি আমাকে বিয়ে করতে রাজী হয় তাহলে শুধু আমার বাবা মাই না, আমার মামা মামীও বেঁচে যান।” এই কথার পর আর কোন কথা থাকতে পারেনা, তাই আমি বাধ্য মেয়ের মতো গিয়ে ওদের চা দিয়ে এলাম। আর সাথে করে কিছু কুৎসিত মন্তব্য নিয়ে ফেরত এলাম।

দুবছর আগেও যদি কেউ আমাকে এসব মন্তব্য করতো, আমি লজ্জ্বায় অভিমানে মারা পড়তাম। অথচ এখন দিব্যি আমি রাতের খাবারের জন্য রান্না চাপাচ্ছি। এসব কথা আজকাল সয়ে যায়। নইলে দুবছর আগে আমিই কি কখনো ভেবেছিলাম মামী এভাবে কথা বলতে পারে !!!!

মামীর পুরোনো দিনের আচরনের কথা মনে করে বোধহয় একটু জোরেই হেসে উঠেছিলাম। মামী ধমকে বলে উঠলো

-   কিরে, কোন পেয়ারের মানুষের কথা মনে পড়লো এখন? হাসতে হাসতে পাতিলের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছিস?

আমি কথার জবাব না দিয়ে ওই দিন গুলোর স্মৃতি ভাবতে লাগলাম…..

২.

আমার গ্রামের কথা মনে হলেই আমার সবার আগে মনে পড়ে জল টলটল করা দীঘি টার কথা। বিশাল একটা তীর ছাড়ানো দীঘি, বুক ভর্তি পদ্ম নিয়ে একা বসে আছে। দীঘির জল মায়ের খোলা চুলের মত কালো। আকাশ ছাঁড়িয়ে যাবার নেশায় আকাশি গাছগুলো পাঁড় জুড়ে দাড়িয়ে থাকে। মাঝ দুপুরে দীঘির মাঝে ওদের ছায়া পড়ে। হঠাৎ করে দীঘির রং হয়ে যায় সবুজ। বুকে কাঁপন তুলে সবুজ জলে সূর্য রৌদ্র ছায়ায় লুকো্চুরি খেলে……..

কিংবা, গ্রামের শেষ সীমানার জট ধরা অশ্বথ গাছটা… ডাল পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখির বাসাগুলো….বর্ষার সময়টায় যখন চারদিক ভেসে যেত, আমরা সবাই মিলে এই গাছটার কাছাকাছি চলে আসতাম বৃষ্টির টুপটাপ গান শোনার জন্য। সন্ধ্যার মায়া আলো আর বৃষ্টির রিনিঝিনি মিলে কেমন যেন একটা সুর তৈরী হতো… সেই সুর বুকে লাগলেই মনটা পালাই পালাই করতো। অকারন কান্না জমা হতো বুকে….

এই করে করেই বেড়ে উঠেছি আমি। মা, বাবা আর আমি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা মাত্র তিন। বাড়িটা প্রায় খালিই পড়ে থাকতো, শুধু ছুটিছাটায় যখন মামারা বেড়াতে আসতো, তখন আমাদের কিচিরমিচিরে বাড়ি ভরে উঠতো। আমিও অপেক্ষায় থাকতাম ওই সময়টার জন্য। তিতলীর স্কুল ছুটি হলেই ওরা চলে আসতো।

তিতলী আমার মামাতো বোন। ও আমার তিন বছরের ছোট। হলে কি হবে, বরাবরই ও আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তিতলীর সাথে খেলার, আর মামীর আনা বই এর জন্য অপেক্ষা করতাম। মামী প্রতিবার আমার জন্য নতুন বই নিয়ে যেত… ওরা আসার আগের রাতে উত্তেজনায় আমি ঘুমুতে পারতাম না। আমি বোধহয় খুব লোভী ধরনের ছিলাম। বই পাওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে দীঘির ঘাটে চলে যেতাম। এক নিঃশ্বাসে পুরো বই শেষ করে বুক ভর্তি আনন্দ কিংবা বিষাদ নিয়ে বাড়ি ফিরতাম।

তারপর বাকী দিন গুলোয় আমি আর তিতলী খুলে বসতাম আড্ডার ঝাঁপি…. বছরের এই কটা দিন আমার কাছে ঈদের মতো ছিল। মাও আর সন্ধ্যা হতেই পড়ার জন্য বকাবকি করতো না। মা আর মামী মিলে গুজগুজ করতো সারাদিন…. মামী আর মা বন্ধু ছিল আমার আর তিতলীর মতো…..

রাতে খাওয়ার পর বাবা পুরোনো দিনের গল্প শোনাতেন। নানা মারা যাবার পর থেকে মামাকে বাবা কিভাবে বাবার আদর দিয়ে মানুষ করেছে, লেখাপড়া শিখিয়েছেন সেই গল্প…. কি মজারই না  ছিল দিনগুলো….

কিন্তু একটা সময় কি করে যেন সব বদলে গেল… বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলেন… আমি তখন সবে এসএসসি দিয়ে রেজাল্টের অপেক্ষা করছি। মা অস্থির হয়ে পড়লেন। বেশ কিছু জমি বেঁচে দিতে হলো… কিন্তু বাবা আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেন না। একটা সময় অবাক হয়ে দেখলাম, অনেক ভালো রেজাল্ট হওয়ার পরও মা কেন যেন কলেজে ভর্তি করতে চাইছেন না…

খুব অভিমান হয়েছিলো সেদিন… চোখের পানি লুকোতে এক ছুটে পদ্ম দীঘির পাড়ে চলে গিয়েছিলাম…. দীঘির পাশের ছোট্ট শিউলি গাছটা আমার বন্ধু… কিন্তু সেদিন বোদহয় আমার কষ্ট দিন ছিলো… আমার বন্ধু বাতাসের সাথে কানাকানিতে মগ্ন হয়ে ছিলো… ঐ গাছটার নীচে ক্লান্ত হয়ে বসেছিলাম আমি.. মনে হচ্ছিলো যেন অনন্তকাল কাটিয়ে ফেলেছি… কখন যে দিনের শেষ মায়া আলো মিলিয়ে সন্ধ্যা হয়েছে টেরই পাইনি…. মা যখন খুঁজতে এসেছে, আমাকে ঘিরে তখন লক্ষ জোনাক আলো… সেদিননই প্রথম বুঝেছিলাম, না পাওয়ার কষ্ট বুকের কোথায় লাগে…
মামার বোধহয় আমার কষ্ট দেখে খুব মায়া হচ্ছিলো। তাই সাথে করে এখানে নিয়ে এসেছে। গত দুবছর আমি এখানে… মামীর ফুটফরমাস খাটি, আর সময় পেলে লেখাপড়া করি……

৩.

আমি আর তিতলী এক বিছানায় থাকি। মেয়েটা চুড়ান্ত বাচাল হয়েছে। রোজ রাতে ঘুমুতে এলেই সে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসবে। সারাদিন স্কুলে কি কি হয়েছে তার সবটা আমাকে না শোনানো পর্যন্ত তার স্বস্তি নেই। আর আমাকেও অবশ্যই প্রতিটা সমস্যার কথা শুনে তার সমাধান দিতে হবে।ওর হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই…..

-   বৃষ্টিপু, আজ তোমার কি হয়েছে রে? সেই সন্ধ্যা থেকে দেখছি কোথাও ডুবে আছো…
-   তিতলী, তোকে একটা কবিতা শোনাই, শুনবি?
-   তোমার নির্ঘাত আজ কিছু হয়েছে…. রোজ এত বলি শোনাও না। আজ নিজ থেকে কবিতা শোনাতে চাইছো!!


-   একদি চাঁদ উঠবে না, সকাল দুপুরগুলো
মৃতচিহ্নে স্থির হয়ে রবে;
একদিন অন্ধকার সারা বেলা প্রিয় বন্ধু হবে,
একদিন সারাদিন সূর্য উঠবে না।

একদি চুল কাটতে যাব না সেলুনে
একদিন নিদ্রাহীন চোখে পড়বে ধুলো।
একদিন কালো চুলগুলো খ’সে যাবে,
কিছুতেই গন্ধরাজ ফুল ফুটবে না।

একদিন জনসংখ্যা কম হবে এ শহরে,
ট্রেনের টিকিট কেটে
একটি মানুষ কাশবনে গ্রামে ফিরবে না।
একদিন পরাজিত হবো।

একদিন কোথাও যাব না, শূন্যস্থানে তুমি
কিম্বা অন্য কেউ বসে থেকে বাড়াবে বয়স।
একদিন তোমাকে শাসন করা অসম্ভব ভেবে
পূর্ণিমার রাত্রে মরে যাব।"  (পূর্ণিমার মধ্যে মৃত্যু, নির্মলেন্দু গুণ)


-   ঘুম যা আপুমনি…. আজ আমার জেগে থাকার রাত…..

৪.
 আমার এইচএসসির রেজাল্ট দিয়েছে। ফলাফল বেশ ভালো হয়েছে। এতটা ভালো হবে তা আমি নিজেও ভাবিনি। আমার রেজাল্টে সবচেয়ে বেশি ঘাবড়ে গেছে মামী। আমি যে এমন রেজাল্ট করবো তা উনি বুঝতে পারেন নি। তারপর অবশ্য সবাইকে ফলাও করে বলে এবং বুঝিয়ে বেড়াচ্ছেন, সবই তার কৃতিত্ব। এই সব কিছুর মধ্যে একটাই ভালো জিনিস হয়েছে। আমার মাকে আমি বহুদিন পর দেখতে পেয়েছি। আমি যখন মাকে জড়িয়ে ধরলাম, আমার এত্ত কান্না পেলো, বলার মত না। আমি মায়ের বুকের ভেতরে ঢুকে হু হু করে কাদছিলাম। কষ্টে আমার বুকটা ভেঙে যাচ্ছিলো। মা অবশ্য কিছু টের পান নি। ভেবেছেন, রেজাল্টের আনন্দে হয়ত কাদছি। আমার তাতে ভালোই হয়েছে। আমি কিছুতেই চাইনা, মা আমার কষ্টগুলো বুঝে ফেলুক। আমার মা হাসলেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। আমি খুব চাইছিলাম, মা আরো কয়েকটা দিন থাক। কিন্তু মায়ের সে উপায় কোথায়?

দুটো দিন কাটিয়েই মা গ্রামে চলে গেলো। আমি রয়ে গেলাম এই বন্দী নগরীতে। তবে একটা পরিবর্তন আমার জীবনে অবশ্যই ঘটেছে এ কদিনে। আমি কিভাবে কিভাবে করে যেন ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেলাম। এখন দিনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় আমার বাড়ির বাহিরে কাটে। দু একটা বন্ধু বান্ধব আমারও হয়ে গেলো। মামীর কুৎসিত শব্দগুলো কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাকে স্পর্শ করে না। আমি প্রজাপতি হয়ে থাকি আমার নিজের ভুবনে।

ক্লাসরুম, স্যার ম্যাডামগুলো, ডিপার্টমেন্ট চত্বর এমনকি ফুল বিক্রী করে যে পিচ্চিটা, সেও আমার আপন হয়ে গেলো। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে সকাল না হতেই কিচিমিচি শব্দে চারিদিক ভরিয়ে তোলে। সবার গল্প আলাদা। সবার চাওয়া পাওয়া আশা নিরাশার কাহিনী পৃথক। তাদের সবার আড়ালে আমি নিজের মত নিজেকে নিয়ে মেতে থাকি। নিজের জন্য কিছু একান্ত সময় খুঁজে পাওয়াটাও তো ভাগ্যের ব্যাপার।

আমার সামর্থ্য থাকলে আমি হোস্টেলে উঠে যেতাম। কিন্তু মামী তার বিনে পয়সার কাজের মেয়েটাকে কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাইলেন না। তাতে কি? আমি ভালো আছি, ভিষণ ভালো।

৫.
আজ ভার্সিটি বন্ধ। কি যেন একটা ঝামেলা হওয়ায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেছে কতৃপক্ষ। টুকটাক কাজ শেষে রুমে বসে আছি কখন থেকে। তিতলীর কোন বান্ধবীর জন্মদিন, মামীকে নিয়ে সে গেছে জন্মদিনের উৎসবে। মামী থাকলে এখন বসে থাকা যেতো না, কিছু না কিছু কাজে লেগেই থাকতে হতো। কিন্তু এখন এভাবে চুপচাপ বসে থাকতেও বিরক্ত লাগছে। আমাকে আরো বিপদে ফেলতেই কি না কে জানে, রবিন ভাই তার বন্ধুগুলোকে নিয়ে হাজির হয়েছে।

দরজা খুলতেই তীব্র ঝাঁজালো একটা গন্ধ নাকে বাড়ি খেলো। সব ক’টা মদ গিলে এসেছে। চোখমুখ লাল করে রবিন ভাই আমাকে চা বানানোর জন্য বললেন। আমি এই প্রথম মামীর অভাব অনুভব করলাম তীব্রভাবে।

কতগুলো চেনা অচেনা ছায়া আমাকে ঘিরে ধরলো। আমি ভাসলাম, ডুবলাম। কখনো পাথরের মত ভারী, কখনো তুলার মত হালকা হলাম। মনে হলো মা আমাকে ফিসফিসিয়ে ডাকছে। আমি চেঁচিয়ে মায়ের ডাকের জবাব দিলাম “মা”…

ডাকতেই থাকলাম, মা আমার শব্দ শুনতে পেলো না। নতুন কোন শব্দে আমার ডাক চাপা পড়ে গেলো। হিসহিস শব্দ, পিশাচের হুংকার, হায়েনার চিৎকার। আমার গলা চেপে ধরলো কেউ। ঠোট চেপে ধরে থামিয়ে দিলো চিৎকার। মনে হলো আমার সারা গায়ের উপর দিয়ে কিছু সাপ কিলবিল করছে। প্রতিটা রক্তকণা বিদ্রোহ করছে আমার সাথে। আগুন লেগে গেছে সারা গায়ে। অসহ্য ব্যাথায় আমি লাল নীল হলাম। আমি কাঁদলাম, চেচালাম, প্রত্যেকের পা ধরে মিনতি করলাম, কিন্তু পিশাচগুলোর কাছে আমার কান্নার কোন দাম নেই। এই সীমাহীন যন্ত্রণার বুঝি কোন সমাপ্তি নেই। একটা সময় আমার নিজের গলার স্বর আর আমার কানে পৌছুলো না। অনুভূতিগুলো ঝাপসা হতে হতে হারিয়ে গেলো।

আমি ডুবে যেতে লাগলাম শুন্যে কোথাও। আমার মাকে দেখলাম। হাত বাড়িয়ে আমাকে ডাকছে। ছুট লাগালাম মার দিকে। পদ্ম দিঘীটা বুক ভর্তি পদ্ম নিয়ে আমাকে এগিয়ে নিতে এলো। শিউলী গাছটার তলে লক্ষ তারার চাদরের নীচে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। কানের কাছে পৈচাশিক কিছু হাসি আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে যেতে এক সময় বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দে পরিনত হলো। আমি ভিজতে লাগলাম অবিরাম বর্ষণে। আহ কি শান্তি......

কিন্তু একটা সময় সেই প্রশান্তিরও সমাপ্তি হলো। সমস্ত শরীরে অসহ্য ব্যাথা নিয়ে আমি আবারও জেগে উঠলাম। আমার চারপাশ ঘিরে আছে একটা নদী। নদীতে পানির রঙ লাল। লাল নদীর ঠিক মাঝখানে ছিন্নভিন্ন আমি বসে আছি, একা। টিমটিম করে ছোট্ট বাতিটা জ্বলছে। আমার নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টাকে বৃথা করতেই বুঝি তার এই জ্বলে ওঠা।

একবার ভাবলাম হারিয়ে যাই। নিজেকে স্মৃতি করে দিই সবার কাছে। ফের মায়ের কথা মনে পড়লো। মাকে দেখি না কতদিন!! বাবার পাশে শুয়ে ঘুমিয়েছি সেই কবে!! তারপর তিতলীর কথা মনে পড়লো। এসেই তো কবিতা শোনানোর বায়না ধরবে। আমি হারিয়ে গেলে রোজ তার গল্প ঝাঁপির গল্পগুলো শুনবে কে? ফুল বেঁচে যে ছেলেটা, তাকে বই কিনে দেবো বলেছিলাম... না দিয়েই চলে গেলে সে পড়বে কি করে? বেচারার যে খুব ছাত্র হওয়ার সখ...

পিশাচ গুলোর কথা ভাবলাম। এত সহজে তাদের যেতে দিই কি করে? ওদের কিছুই হবে না, তা কি করে হয়!! আমি হারিয়ে যাবো আর ওরা রয়ে যাবে এখানে, এভাবে?? কাল যদি আমার তিতলীর সাথে... থই থই লাল পানিতে পা ফেলে আমি হেঁটে চললাম পাশের ঘরে। অনেক কাজ বাকী এখনো। মাঝে হয়ত ডুকরে কাঁদছিলাম আমি। কিন্তু তাস পেটানোর আর হাসির হল্লার শব্দে শুনতে পায় নি কেউ। আজ আমিও বলবো। আজ আমারও কিছু করার আছে। অসুর বধ করবো বলে পা টেনে এগিয়ে চললাম সামনের দিকে। জলন্ত এক জোড়া চোখ আর ছোট্ট একটা কুড়ুল হাতে……

একটি ভালবাসার গল্প


আমি জীবনে যে ভালবাসিনি এমন না, আমিও একদিন ভালবেসেছিলাম । অনেক ছোট থাকতে। তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি । মোটামুটি দুষ্টুও ছিলাম বটে। দুষ্টামি করার সকল উপায় ভালভাবেই জানা ছিল আমার। স্কুল জুড়ে দুষ্টামিতে আমার নাম ছিল হিটলিস্টে। ক্লাস ফাকি আর স্কুল পালানো ছিল আমার খুব পছন্দের। তবে মেয়েদের ব্যাপারে ছিলাম খুবই ভদ্র। এই ধরনের দুষ্টামিতে যখন হচ্ছিলোনা, তখন বন্ধুরা বলল একটা প্রেম কর। তারপর তারা একটা মেয়েও পছন্দ করে দিল। দেখলাম মেয়েটা সত্তিই অনেক সুন্দর।বেশ লম্বা। মেয়েটাকে আমি আগেও অনেকবার দেখেছি, কিন্তু এভাবে কোনদিন ভাবিনি। সেদিন অনেক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। দেখলাম সারাদিন শুধু মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছি। তখন থেকেই বুঝতে শুরু করলাম ভালবাসা কি। সেদিন রাতে ঘুম একদমই হচ্ছিলনা। পরদিন স্কুলে গেলাম, আর তাকে দেখলাম নতুন করে। মনে হল শুধু এই স্কুলে না, সে যেন পৃথীবিতে সবার চেয়ে সুন্দর। সত্তিই ভালবেসে ফেললাম তাকে। স্কুলে সবসময় তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে। তাকে দেখলে আমার বুকে অন্যরকম একটা অনুভুতির সৃষ্টি হতো। নিজের অজান্তেই আমার মুখের কোনে অদ্ভুত একটা হাসি খেলে যেত। খুব ইচ্ছা হতো তাকে আলতো করে একটু ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু তার মুখোমুখি হলে তার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না, মাথা নিচু করে ফেলতাম। আমার মনে আছে সেদিন থেকে আমি আর একদিনও স্কুল কামাই করিনি। তখন মনে হতো শুক্রবারেও ক্লাস হলে খুব ভাল হতো। দুষ্টামি একেবারেই ছেড়েদিয়েলাম। দুষ্টামিতে হিটলিস্টে থাকা ছেলেটি হটাৎ এত ভদ্র হয়ে গেলো এটা নজর এড়ালনা কারোরই, এড়ালনা তারও। ভালবাসার কথা সরাসরি বলতে পারলাম না তাকে, অবশ্য আমার অবস্তা দেখে তার একবিন্দুও বুঝতে বাকি ছিলনা, সে বাপারে আমি ছিলাম নিশ্চিত। ব্যাপারটা বললাম ওর এক বান্ধবীর কাছে, যে আমাদের এলাকাই থাকে। ও শুনে হাসল আর বলল সাকিলা সব জানে। সেদিন খুব লজ্জা পেয়েছিলাম আমি। ও দুঃখিত, মেয়েটার নাম সাকিলা। যেহেতু তখন মোবাইলের এত প্রচলন ছিলনা সেহেতু আমাদের ভেতর কথা আদান-প্রদান করে দিত তার ওই বান্ধবী। এভাবে কেটে গেল কিছুদিন, হঠাৎ দেখলাম সে একদিন স্কুলে আসতে দেরি করছে,, ভাবলাম ওতো দেরি করে স্কুলে আসেনা। ওর বাসাটা ছিল স্কুলের পাশেই, চলে গেলাম ওদের বাসার পাশে। ওখানে দেখা হল আমার এক বন্ধুর সাথে, জিজ্ঞেস করলাম শাকিলা দের বাসা কোনটা রে। যে বাসার পাশে দাড়িয়ে ছিলাম আমি জানতাম না ওটাই সাকিলাদের বাসা। সাকিলা জানালা দিয়ে বলল দাড়াও আমি আজ স্যারের সাথে সব বলে দেব। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম কারন আমার আব্বুই স্কুলের হেডমাস্টার । ও যখন স্কুলে আসলো তখন তো ভয়ে আমার অবস্তা খারাপ। আমার অবস্থা দেখে ও হেসে ফেলেছিল সেদিন। কিন্তু ও কিছুই বলল না । আমাদের ব্যপারটা স্কুলে তখনও আমার বন্ধুদের ভেতরই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু জীবনের প্রথম প্রেম তাই নিজেকে আমি আর বেশিদিন কন্ট্রোল রাখতে পারলাম না, সবাইরে বলে বেড়াতাম। কেন জানি খুব আনন্দ লাগত সবাইকে বলতে। কেউ যদি ওর প্রশংসা করত, ওকে সুন্দর বলতো, তাহলে আমার খুব আনন্দ লাগত। অল্প কিছুদিনের মধ্যে জেনে গেল স্কুলের সমস্ত স্যার ম্যাডাম আর ছাত্ররা। আমার ছোট বোনও ওকে খুব পছন্দ করত, একদিন ভাবি বলেও ডেকেছিল। অনেক ভালবাসতাম তাকে, শুধুই বাসতাম না এখনও ভালবাসি আগের মত অনেক অনেক ভালবাসি। ওকে নিয়ে কবিতা লিখতে যেয়ে আব্বুর হাতে ধরাপড়ে মার খেয়েছি একদিন। একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার সাথে ওর সরাসরি এর মধ্যে একটা কথাও বলা হয়নি। দেওয়া হয়নি ১৪ ফেব্রুয়ারিতে একটা ভালবাসার লাল গোলাপ। কখনো সামনে দাড়িয়ে চোখে চোখ রেখে বলতে পারিনি সাকিলা আমি তোমাকে আমার জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসি। আমার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন এখন তোমাকে নিয়ে ঘর বাধা। তবু জানতাম ও আমাকে ভালবাসে। এভাবে ওকে ভালবেসে আমার প্রতিটা দিন সপ্নের মতই সুন্দর কাটছিল। কিন্তু ভালবাসা সবার জন্য না এই সত্যটা প্রমানিত করার জন্য বাস্তবতা আমার এতদিনের সাজানো সপ্নকে এক রাত্রেই ভেঙ্গে দিল। আমাকে করে দিল খুব একা । প্রতি বৃহস্পতিবারের মত কোন এক বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফেরার সময় হলো মন খারাপ যে তাকে একটা দিন দেখতে পারবনা। শনিবার স্কুলে গেলে কিছু মেয়ে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো সাকিলা বিয়ে করলো আমাদের একটু জানালও না। আমি শুনে অস্তির হয়ে গেলাম। কি করব ভাবতে পারলাম না। পরে যখন জানতে পারলাম এটা সত্যি !!!!!!! তখন মনে হল আমি অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারছিনা। ঠিক ঐদিনই খেয়েছিলাম জীবনের প্রথম সিগারেট। তারপর এমনও সময় গেছে একটানা ৪-৫ দিন সূর্যের আলো দেখিনি। একাকী একটা ঘরে তাকে নিয়ে আমার লিখা কবিতা গুলো পড়তাম। কারও সাথে মিশতাম না, সবসময় একা থাকতাম। অবশ্য এর জন্য তার কোন দোষ নেই। ওইদিন তার ফুফুকে দেখতে এসে তাকে পছন্দ করে ফেলে বরপক্ষ। ঘটনাক্রমে তার আব্বুও রাজি হয়ে যাই। শুনেছি সে নাকি অনেক কেঁদেছিল ওইদিন, কিন্তু কেও শোনেনি তার ওই কান্না। অবশ্য প্রতিবেশীরা অনেক বুঝিয়েছিল তার আব্বুকে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। শুনেছিলাম ছেলেটা খুব ভাল পরিবারের এবং ভাল একটা চাকরী করে। তায়ই হয়তো সুযোগটা হাতছাড়া করেনি। তবে ও ঠিকই ভালবেসেছিল আমাকে। ওর বিয়ের তিনদিন পর আমাকে অবাক করেদিয়ে ও স্কুলে এসে আমাকে ডেকে পাঠাল একটা ক্লাস রুমে, আমি যেয়ে দেখি শুধু ও আর ওর বান্ধবী। আমরা তিনজনই চুপকরে আছি, হঠাৎ ও বলল আমি একেবারে চলেএসেছি আমাকে বিয়ে করতে পারবে??? আমি এই কথাটার কোন সঠিক উত্তর খুজে পেলাম না। নিজের অজান্তেই বলে ফেললাম না। নিজের কণ্ঠস্বর শুনে নিজেই চমকে উঠেছিলাম সেদিন। যাকে এত ভালবাসি তাকে এভাবে ফিরিয়ে দিলাম!!!!!!!! না কথাটা বলেই মাথাটা নিচু করে নিয়েছিলাম। একদিকে আমার চোখের জল যেন না দেখতে পায়, আর তার সামনে মাথা উঁচু করার মত সাহস সেদিন আমার ছিলনা, তাই সেদিন আমার না শুনে তার মুখের অবস্থা কেমন হয়েছিলো সেটা দেখতে পারিনি। জানিনা সেদিন সে আমাকে ভুলবুঝেছিল কিনা???? তবে তাকে সেদিন না বলার কারন, তার আগে এক যাইগায় বিয়ে হওয়াটা না। তখন আমি সবেমাত্র নাইনে পড়তাম, তখন আমি যদি তার কথায় রাজি হয়ে তাকে কথা দিতাম, আর যদি সে আমার দেওয়া কথাতে বুক বেধে আমার জন্য অপেক্ষা করত, তখন ওটা আরও খারাপ হতো। হয়তো আমার ছোটবেলাই না বুঝে দেওয়া কথাটার কোন মূল্য দিতনা এই সমাজ, আমার পরিবার। তারপর সে আর ফিরে যায়না তার স্বামীর কাছে। আমাদের স্কুলেই আবার পড়ালেখা করতে থাকে। দেখতে দেখতে কেটেযাই আরও অনেকদিন। প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকা সত্তেও লজ্জায় আর আগের মতোকরে তাকাতে পারিনি তার ওই সুন্দর মুখটির দিকে। যে মুখের দিকে তাকালে একদিন আমার হৃদয় ভরে যেত। তারপর থেকে লুকিয়ে সেই মুখের দিকে তাকালে কষ্টে হৃদয়টা বের হয়ে আসতো, অদ্ভুত হাসির বদলে লাল হয়ে যেত দুই চোখ। বিষয়টা এখানেই থেমে থাকেনি। যেহেতু আমার আব্বু ছিল হেডমাস্টার সেহেতু আমার জন্যই তাকে স্কুলটা ছেড়ে পাশের একটা স্কুলে ভর্তি হতে হয়। তারপর থেকে আর কোন মেয়ের এমনকি কোন ছেলের সাথে আর বন্ধুত্ব করিনি। একা থাকতে পছন্দ করতাম একা একা ঘুরতাম। কারো সাথে মিশতাম না। অধিকাংশ সময় একা বিছানাই শুয়ে তারে নিয়ে লিখা কবিতা গুলো পড়তাম। আমার রুমে আর কাওকে ঢুকতে দিতাম না। মাধ্যমিক পাশ করে একটা কলেজে ভর্তি হলাম। সেখানে শিরিন নামের একটা মেয়েকে ভাললাগলো, কিন্তু ভালবাসতে ভয় পেতাম। অল্পকিছুদিনের মধ্যে মেয়েটা বুঝেগেল ব্যপারটা। হলো বন্ধুত্ত তারপর ভালবাসা। কিন্তু সাকিলার জাইগাটা অন্যকেও দখল করবে এটা মেনেনিতে পারিনি আমি। অবশ্য শিরিন আমাদের ভালবাসাটা গড়াতে গড়াতে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি কোনদিনই তাকে সাকিলার যাইগায় বসাতে পারিনি। নিজের হাতে নষ্ট করেছি আরেকটি ভালবাসা। এখন অবশ্য নিজেকে অনেকটা কন্ট্রোল করতে শিখেছি। নতুন করে কষ্ট পাওয়ার ভয়ে আর কোনদিন কাওকে ভালবাসতে পারিনি। তবুও এখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমাকে ভুল বুঝে ভুলে যেওনা সাকিলা, আমি এখনও তোমাকে আগের মত ভালবাসি। পাঁচবছর পর হটৎ দুইমাস আগে দেখা হয়ে গিয়েছিল ওর সাথে, কথাও হয়েছিল কয়েকটা। বুঝলাম এখনও ভালবাসে আমায়। কিন্তু কতটা সেটা বুঝার মত ক্ষমতা আমার মত অপরাধীর নেই। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হলো তখন। আমি সত্যিই অপরাধী, তা নাহলে এমন একটা নিস্পাপ ভালবাসা থাকতে অন্যকোথাও সম্পর্ক করি কিভাবে। আমাকে ক্ষমা করে দিও সাকিলা। ভাল থেকো।।। আর জেনে রেখ আমি এখনও তোমাকে সেই নাইনে পড়া তাসিন এর মতই ভালবাসি। সে পরে বিয়ে করেছে কিনা???? না সে এখনও বিয়ে করেনি। ও ২০১৩ তে উচ্চমাধ্যমিক দেবে। 

একটি অদ্ভুত ভালবাসার গল্প...



একটি মেয়ে একটি ছেলেকে পাগলের মত ভালবাসে... ভালোই চলছিল তাদের দিন কাল...
১ বছর পর মেয়েটা খেয়াল করল ছেলেটা তাকে আর আগের মত ভালবাসে না...
তাকে avoid করে চলে... একটা সময় ছেলেটা মেয়েটার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো...
মেয়েটা জানতে পারলো ছেলেটার নতুন গার্লফ্রেন্ড হয়েছে...

মেয়েটা এই বিষয় নিয়ে ছেলেটিকে প্রশ্ন করতেই সে বলে অতীত ভুলে যাও...
মেয়েটা বেইমান বলে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এলো ...
সে কিছুতেই ছেলেটিকে ক্ষমা করতে পারলো না...

এই ঘটনার ৬মাস পরে মেয়েটার কাছে ছেলেটার মৃত্যু সংবাদ এলো
ছেলেটা মারা যাবার আগে মেয়েটার জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছিল...
ছেলেটার এক বন্ধু এসে মেয়েটাকে টা দিয়ে গেলো...
মেয়েটা রাগে চিঠি টা ফেলে রাখলো
রাতে ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ছিল

সে চিঠিটা খুলে পরতে শুরু করলো

বিধাতার করুন পরিহাসে আমরা এক হতে পারলাম না
যেদিন আমি জানলাম আমি আর ৬ মাস বাঁচব সেদিন থেকে বুকে পাথর চেপে তোমার সাথে অভিনয় শুরু করলাম... ভেবেছি তুমি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে...
তাই তোমার থেকে দূরে থেকেছি... যখন তুমি এটা পড়বে আমি তোমার থেকে অনেক দূরে থাকবো... আমার কারনে তোমার চোখে আমি অশ্রু দেখতে পারবো না...
তাই তোমার সাথে এমন করেছি... আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো...

চিঠি টা পরতে পরতে মেয়েটার চোখের জলে চিঠি টা ভিজে গেলো......