সব ধরনের ভাল বাসার গল্প পেতে এই ব্লগটি সব সময় ভিজিট করেন
সব ধরনের SMS পেতে ও এইখনে ভিজিট করেন
Showing posts with label Love Story. Show all posts
Showing posts with label Love Story. Show all posts

ঝগড়া এবং প্রেম... মাধ্যম একটি গোলাপি ছাতা


নীলক্ষেতের মোরে রিক্সা থেকে নামতেই ভিজে চুপসে গেলাম, মাথা ও শরীরে আকাশ হতে নিক্ষিপ্ত বরফের অত্যাচার। এ তো ভয়ংকর বৃষ্টিরে বাবা। মোবাইলটা কোনও মতে পকেটে চালান দিয়ে ভোঁ দৌড় মারলাম, গন্তব্য সামনের দোকান গুলোর কোনও চিপা, যার উপর দিয়ে ওই মেঘঘন আকাশটা দেখা যায় না। দৌড়াচ্ছি আর আশেপাশের চিপাগুলো দেখছি, মানুষে টাঁসা, শালা এই দেশের জনসংখ্যা এতো বেশি কেন, ছোটবেলায় পড়েছিলাম...


বিনোদনের যথেষ্ট উপকরন না থাকায় যৌনতাই বিনোদনের উপলক্ষ, কিন্তু এখনতো বিনোদনের অভাব নাই, তাও জনসংখ্যা এতো বেশি কেন? ব্লগে এর উপর ব্যাপক একটা লেখা লিখতে হবে, তার আগে নিজেরে বাচাইতে হবে। একটা দোকানে কিছুটা হালকা অবস্থা মনে হচ্ছে, ওই দিকেই যাই... বাকিটা উপরয়ালার কৃপা।

- এই সরে দাঁড়ান,...... স্টুপিড।

ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালাম, মোটা কাল ফ্রেমের চশমার ভিতর দিয়ে একজোড়া সরল চোখ, ঠোঁট গুলো রাগে কাঁপছে, গালে হালকা টমেটো মার্কা লালচে চোপ।

- অ্যান্টি কোনও সমস্যা??
- এই ফাজিল ছেলে, আমি দেখতে তোর অ্যান্টির মতো?
- হুম, কি সমস্যা অ্যান্টি?
- আরে বেয়াদপ তো, অ্যান্টি অ্যান্টি করছিস কেন? ভিজা শরীরটা সরা নইলে থাপ্পড় খাবি।

একি মেয়েরে বাবা, সরাসরি তুই তুই করছে। মেজাজটা আরও খিঁচরা হয়ে গেল।

- ওই বেটি, আমি তোর ড্রাইভার লাগিযে তুই তুই করছিস?

“আপু কোনও সমস্যা” বলে একজন নারীবাদী এগিয়ে আসলো। তাকাইয়া দেখি বেটা একটা পালোয়ান। সিচুয়েসন প্রতিকূলে।

- আরে দেখুন না, বেয়াদপটা গায়ে পড়ে অভদ্রতা করছে। বললাম, সরে দাঁড়ান... উল্টা আমার সাথে ফাইজলামি করছে। স্টুপিড একটা।
- এই যে ভাই, মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাহে না? দেইখা তো ভদ্র ঘরের পোলা মনে হইতাছে। সইরা দাঁড়ান এহনি, নাইলে সমস্যা আছে। আইজকালকার পোলাপাইন গুলা যে কি পরিমান ফাজিল হইয়া গেছে।
- আপনি নিজের চরকায় তেল দেন, আমি ঢুকতে পারলাম না, শরীর ভিজে গেছে তো দেখতেই পাচ্ছেন, আর একটু পানির ছিটা লাগছে, এতেই উনার আমাকে স্টুপিড বলতে হবে?


যথাসম্ভব কঠিন আর ভারিক্কি একটা লুক নেবার চেষ্টা করলাম। লাভ হইছে বলে মনে হল না। মেয়ে মানুষ দেখলে যে কেউ হিরো সাজবার চেষ্টা করে, আর এতো একটা পালোয়ান... আমার তিনগুন। তাই সরে দাঁড়ালাম আস্তে করে, একটু অনিচ্ছার ভাব নিয়ে। মেয়েটার দিকেও একটা কঠিন লুক চালান দিয়ে দিলাম, ওইখানেও খুব একটা লাভ হইল না। মাছি মারার ভংগিতে আমারে নদীর ওপারে উড়াইয়া দিল। অগত্যা ভিজা শরীর নিয়া হাদারামের মতো ওইখানে অস্বস্তিকর টাইম পাস করতে লাগলাম। হালকা ঠাণ্ডা লাগছে। শরীরটা একটু কাঁপছেও মনে হয়।

বেশ কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি হালকা হয়ে আসলো। বের হয়ে যাবো কিনা ভাবছি, তখন আবার ওই বেটি খেকিয়ে উঠল- “সরে দাঁড়ান, বের হবো।” যাই হোক, তুই থেকে সরাসরি আপনিতে উন্নীত হইছি। মেয়েটা খারাপ না, মেজাজটা একটু গরম মনে হয়। বাপ মনে হয় গ্রাম্য চেয়ারম্যান... এই ধরনের বাপের বেটিরা একটু এই টাইপ হয়। সরে দাঁড়ালাম।


সামনে দিয়া যখন বের হয়ে গেল, নাকে সেই মানের একটা সুবাস পেলাম। আহা, রাগ ধুয়ে মুছে মিঠা পানি হয়ে গেল। ভালো করে একটু দেখলাম, শ্যামল দেশের সাদা মেয়ে... সুন্দরী তো সেটা পাগলেও বলবে।


ঘুরে জায়গা নিয়ে দাড়াতে যাবো, একসাথে অনেক গুলা হাসির শব্দে পেছনে ফিরে তাকালাম... চেয়ারম্যানের বেটি রাস্তায় ময়লা আবর্জনার মাঝে গড়া-গড়ি খাচ্ছে, একটি কলার খোসা পায়ের চাপে ভর্তা হয়ে ঈদের চাঁদের আকার ধারন করে উনার পতনের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। অনেকের সাথে আমিও চেয়ারম্যানের বেটিকে হেল্প করতে এগিয়ে গেলাম। মেয়ে মানুষ, তাই কেউ হাত দিয়ে তুলতে ইতস্তত করছে... আর বেটির চশমা চোখে নাই, সেও বোধ করি কিছুই দেখতে পারতেছে না। অদ্ভুত সিচুয়েসন।


“দেখি, সরেন তো ভাই, সরেন... ওর চশমাটা দেখুন তো কই”... বলে আমি এগিয়ে গেলাম। মায়া লাগলো দেখে, চশমা ছাড়া মনে হয় কিছুই দেখতে পারছে না, আর সাড়া শরীর তো কাঁদায় যাচ্ছে তাই অবস্থা। মানুষ গোল হয়ে নাটক দেখছে... কেউ কেউ তো শরীর দেখার এতো মজার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। আমি হাতটা হালকা করে ধরে, মুখটা কানের কাছে নিয়ে বললাম...
- অ্যান্টি... আমি, আপনার স্টুপিড... টেনশন করবেন না, কোথাও লেগেছে?
- নাহ, আমার চশমাটা দেখুন না কোথায় প্লিজ... (কাঁদো কাঁদো কণ্ঠ)


একজন চশমাটা এগিয়ে দিল আমার হাতে, একদিকের ফ্রেম ভেঙ্গে গেছে। চশমাটা ওর হাতে দিয়ে একজনকে একটা রিকশা ডেকে দিতে বললাম। ওর দিকে তাকিয়ে দেখি চশমাটা কোনও রকমে পড়ে বোকা বোকা দৃষ্টিতে চারদিকে তাকাচ্ছে... আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটা লুক দিল, ওই দৃষ্টিতে এতো মায়া, আমি কয়েকটা পালস মিস করলাম। আস্তে করে হাতটা ধরে ওকে দাড় করালাম।
- আঘাত পেয়েছেন কোথাও?
- কি জানি, আমার কান্না পাচ্ছে...
- রিকশায় করে বাসায় চলে যান, ড্রেসের বাজে অবস্থা...
- আপনি যাবেন আমার সাথে একটু, প্লিজ...


আমি এমনিতেই যেতে চাচ্ছিলাম মনে মনে, বলাতে মনটা লাফিয়ে উঠল... একসাথে রিক্সায় উঠলাম। মানুষজন আমার আর ওর দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। কেন জানি বুকের কোথাও নতুন কিছু সুর বিভিন্ন তাল আর লয় নিয়ে বাজতে শুরু করল। রিক্সার হুডটা তুলে দিলাম, পলিথিনের কাগজটা দিয়ে বাহিরের জগত থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। সমস্যা একটাই, কাদা-ময়লার অতি মিষ্ট সুবাসে আমি আপ্লুত হয়ে রইলাম।


“ভাইজান যামু কোন জাইগায়?”... রিক্সাওয়ালার কোশ্চেনে আবেগের সুরেলা সঙ্গীতে কিছু বেসুরা টান অনুভব করলাম। আমি কাদাকুমারীর দিকে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখি উনার কাজল কাল চোখে মেঘের ঘনঘটা, বর্ষণ এই হল বলে, শুধু একটা দমকা হাওয়ার ধাক্কার অপেক্ষা।


- দেখতাসস না তোর ভাবির বেহাল অবস্থা?... চলতে থাক, উনি এখন কোন জাইগায় যাবে তার মুডে নাই, আগে মুড ঠিক হউক...
- আপনি সবসময় এমন ফাইজলামি করেন কেন?... স্টুপিড।
- যাক, কথা বলছেন তাহলে... খোঁচা কামে লাগছে... এখন কই যাবো, ঠিকানা বলে ফেলেন... চোখে তো মেঘের ঘনঘটা দেখতে পারছি... বর্ষণ শুরু হলে আর বলতে পারবেন না।
- আপনি না যাচ্ছে তাই... এই মামা ইস্কাটনের দিকে চলো।

রিক্সা চলছে মামার ইচ্ছের গতিতে, পলিথিনের চিপায় আমরা দুটি নর-নারী নিশ্চুপ বসে আছি। বিশাল কাহিনীর পর একটা সিগারেট ধরাতে মন চাচ্ছে... কিন্তু বুঝতে পারছি না... পাশে বসা কাদাকুমারী আবার খেকিয়ে উঠবে না তো!! ধুর... “ওই মামা... ওই সিগারেটের দোকানের পাশে একটু রাখেন তো”... চাইলাম না কাদাকুমারীর দিকে... ভয়ে নাকি কেন, জানি না।

- মামা, কোথাও দাঁড়াবেন না, সোজা চলেন... (আমার দিকে তাকিয়ে)... আপনি তো অদ্ভুত লোক... নাম কি আপনার?... কি করেন??
- অদ্ভুত লোকটার নাম আকাশ... কি করি??... ওই ঘুরাঘুরি আর কি...
- হুম... বেকার?
- বেকার বলে লজ্জা দিবেন না... আমরাও মানুষ।

ও হেসে ফেলল। এতো মিষ্টি কাদাময় হাসি। মনটা পুরাই বরফের মতো গলে গেল।

- আপনার নামটা কি জানতে পারি?
- নাম দিয়ে কি করবেন?
- ওমা!!... আপনি জানলেন... আমি জানব না??
- নিশি...


আমি তাকালাম ওর দিকে... নিশি !!!... নিশ্চুপ হয়ে গেলাম আমি। প্রেম আমার চোখে মুখে টলটল করছে। এই আমার সমস্যা... সুন্দরী দেখলেই আমার প্রেম হয়ে যায়। আকাশ গার্ল হওয়ার যে কয়েকজন বিরল দুর্ভাগ্যের অধিকারী হতে পেরেছিল তাদের তালিকায় কাদাকুমারী নিশি কে দেখতে পারলাম না। সেই আশা করেও লাভ নেই।


কখন যে ওর বাসার সামনে চলে আসছি টেরই পাইনি। রিক্সা থেকে নামলাম, ভাড়া দিলাম। তাকালাম ওর দিকে, ক্ষণিকের পরিচয় অথচ কতো চেনা মনে হচ্ছে। আমি একটা উত্তম কুমার টাইপ হাসি দিলাম।
- যান তাহলে, বডি গার্ডের কাজ তো শেষ।
- আপনি কি সব সময় এমন ফান করেন? বাসায় চলুন... মার সাথে কথা বলে পরে যাবেন।
- মার সাথে?... কেন, কি করছি আমি?... দেখুন আমি কিন্তু আপনারে ধাক্কা দিয়ে ফেলেনি...
- আপনার ফাইজলামি শেষ হইছে??..... উপরে তাকিয়ে দেখুন বারান্দা থেকে মা আমাদের দেখছেন। তাই, আপনাকে এখন যেতে হবে এবং সুন্দর করে ঘটনাটা বলতে হবে... এবং অবশ্যই... আপনি যে আমার কেউ না... সেটাও সুন্দর করে বলবেন।


আমি উপরে তাকানোর সাহস না করেই ওর পেছন পেছন গেইট দিয়ে বাসায় ঢুকলাম। দারওয়ান চোখ গোল করে সালাম দিল... আমারে না কাদাকুমারীরে আল্লাহ জানে। পেটের ভিতর শিরা-উপশিরা গুলো কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলা শুরু করে দিছে... আজকে কার মুখ দেখে যে উঠছিলাম... মনে হয় রহিমা বুয়া।


ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে বসে আমের জুস খাচ্ছি আর ইন্টারভিউ পর্ব মনে মনে সাজাচ্ছি। “নাম কি তোমার?”... মাথা তুলে প্রশ্নকারীর দিকে তাকিয়ে দেখি মধ্যবয়সী একজন মহিলা। দেখেতে তো সহজ সরল মমতাময়ীই মনে হচ্ছে। দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম।
- জী, আকাশ।
- বসো... ভালো নাম কি?
- সাইফুল আমিন আকাশ।
- বাসা কোথায় তোমাদের?
- জী, ময়মনসিংহ।
- হুম... বাবা কি করেন?

- হাই স্কুলের হেডটিচার।
- মা?
- মেডিকেলে চাকরী করেন।
- কয় ভাইবোন?

মহিলার সমস্যা কি??... পুরা বায়োডাটা জিজ্ঞেস করতেসে... আসল কোশ্চেন কখন শুরু হবে সেই অপেক্ষায় আছি...

- জী, দুই ভাই, এক বোন। আমি সবার বড়, তারপর বোন, তারপর আবার ভাই।
- আচ্ছা, কি করো?
- জী, আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার...


“ইঞ্জিনিয়ার??... ” বা দিকে তাকিয়ে দেখি নিশি... নতুন চশমার ভিতর দিয়ে চোখ গুলো যেন বের হয়ে আসছে... ফ্রেশ হয়ে একটা সাদা ড্রেস পড়ছে... পরীর মতো লাগছে...


- নিশি তুই কথা বলবি না, কোথা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছো?
- বুয়েট থেকে।
- অনেক ভালো, আচ্ছা, বসো... তোমরা কোথা বল... দুপুরে খেয়ে যাবে এখানে।
- জী... না... আমি বাইরে খেয়ে নিতে পারবো।
- খেয়ে যাবে... বললাম না। বসো...

নিশির দিকে তাকালাম... মুখে দুষ্টামি হাসি। পুরাই অস্বস্তিকর সিচুয়েশনে পড়লাম...

- আপনি না বেকার?
- আমি তো বলি নাই, আপনিই তো বললেন... আমি শুধু বলছি... বেকার বলে লজ্জা দিবেন না... আমরাও মানুষ।
- হুম... আপনি ফাইজলামির ওস্তাদ... বুঝা উচিত ছিল।

অনেক কথা হয়। আমি আপনি থেকে তুমিতে নেমে গেলাম... নিশি আমার থেকে চার বছরের ছোট... ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং এ পড়ছে... থার্ড ইয়ার। হাসা-হাসি, ফাইজলামি চলতে লাগলো আমার... ভালই হইছে... বাইরে আবার যে বৃষ্টি শুরু হইছে... সময়টা খারাপ কাটছে না। দুই দিনের ছুটির প্রথম দিনটা ভালই কাটছে। নিশির মার রান্নার হাত চরম। এই বাসায় ঘর জামাই হইতে পারলে ভালো হইত।


বিদায় বেলা আসন্ন। অ্যান্টিকে খাওয়ানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ দিলাম। নিশির দিকে তাকিয়ে একটু হাসলাম।

- যাই তাহলে... অনেক ভালো একটা দিন কাটল আমার... মনে হয় লাইফের বেস্ট। যে কারনে বাসায় ঢুকলাম, সেই বিষয়ে অ্যান্টি কোনও কোশ্চেনই জিজ্ঞেস করে নাই। ভালই হইছে... আমি যে তোমার কেউ না... সেটা অ্যান্টি দেখেই বুঝচ্ছে... তাই জিজ্ঞেস করেন নাই।
- তাই??...... আপনার তাই মনে হইছে... আপনাকে ভালো লাগছে... তাই কিছু বলে নাই... মার তো ধারনা আপনার সাথে আমি চুটিয়ে প্রেম করছি... আমাকে বলছে... এতো ভালো ছেলের সাথে তোর পরিচয়... বলিসনি কেন?...


হৃদয়ে বিজলিপাত হল একটা... প্রচণ্ড ভোল্টেজে আমি স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকলাম নিশির দিকে। ওই দৃষ্টিতে কি ছিল জানি না... নিশি চোখ নামিয়ে নিল... হাতের নখ খুঁটতে লাগলো। আমি বুঝতেসি কিছু বলতে চাইলে এটাই সময়... কিন্তু কিছুই মাথায় আসতেছে না। কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে বললাম...
- একটা ছাতা দিবা, মনে হয় বৃষ্টি হবে... পরে আবার দিয়ে যাবো...


নিশি মুখ তুলে তাকালো... খিল খিল করে হাসি দিল... আমি গলে গেলাম... গলা শুখিয়ে কাঠ হয়ে গেলো...


আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি... নিশি ভিতরে গেছে ছাতা আনতে... অনন্তকালের অপেক্ষার পর আবার নিশির মূর্তি দেখা গেলো... হাতে একটা গোলাপি ছাতা...
- এটা আমার ছাতা... অনেক পছন্দের... আপনাকে দিচ্ছি... কিন্তু আপনি যে ধরনের মানুষ... এর যত্ন নিতে পারবেন না, আপনার মোবাইলটা দেখি...


আমি মোবাইলটা ওর হাতে দিলাম... কি যেন করল... তারপর ফিরিয়ে দিয়ে বলল...
- ছাতার মালিকের নম্বর আছে ওখানে... ইচ্ছে থাকলে আপনি তাঁকে কল করতে পারেন।


আমি রাস্তা ধরে হাঁটছি... ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে... হাতে একটি গোলাপি ছাতা... পৃথিবীটা অনেক সুন্দর।

Valobasar Joy Part - 3

Story : Valobasar Joy

Writer : Tariqul Islam Shovon


শোভন ভাবে, এইভাবে সুন্দর একটা জীবন শেষ হয়ে যাবে। তা তো সে হতে দিতে পারে না। ঠিক তখনই সানিয়াদের পরিবারকে আশার আলো দেখায় শোভন। পুরোপুরি সাপোর্ট দেয় সানিয়াকে। এখন তার অনেক কাজ। কথা যেহেতু দিয়েছে, সেহেতু যে করেই হোক টাকা তাকে যোগাড় করতেই হবে। শোভন ওর বন্ধু সাইম, নাঈমকে সব ঘটনা বলে। তারা কিছু টাকা দেয়। তারপর শোভন তার টিউশনির কিছু টাকা অগ্রীম আনে। সবসময় সানিয়ার খোঁজ নেয় সে। সানিয়াকে শুধু এই কথাই বলে, "এটা কোনো করুণা নয়। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা। তোমাকে বাঁচতেই হবে।"
সানিয়াও শোভন কে ভালোবাসতে শুরু করে। সানিয়া বিশ্বাস করে শোভন কখনো ওকে ছেড়ে যাবে না। টাকার জন্য শোভন তার সবচাইতে প্রিয় গিটারটা বিক্রি করে দেয়। তার কাছে এখন সানিয়ার জীবনটাই বেশী দামি।
একদিন শোভন টাকাগুলো নিয়ে সানিয়াদের বাষায় যাচ্ছে। পথে কিছু মাস্তান তাকে খুব মারধোর করে। শোভন কিছুতেই টাকাগুলো ছাড়ে না। কারণ এটাই শেষ সম্বল। এর উপরই নির্ভর করে আছে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি ভালোবাসা। কিন্তু "কপালের লিখন না যায় খন্ডন।" শেষ চেষ্টা করেও শোভন টাকাগুলো রক্ষা করতে পারল না।

শোভন সেদিন বাষায় চলে যায়। পরে সানিয়া শোভনকে কল করে।
_কি খবর তোমার?
_এইত ভালো। তোমার অবস্থা কি?
_এইত। ওহ সু-সংবাদ টাকার জোগাড় হয়ে গেছে। ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। চাইলে আগামীকালই অপারেশণ শুরু করতে পারবা।

সানিয়া খুশীতে আত্মহারা। পরদিন যথা সময়ে অপারেশণ শুরু হয়। শোভনের জন্য অনেক্ষণ অপেক্ষা করে সানিয়া। শোভন আসে না। শেষে অভিমান নিয়ে অপারেশণ থিয়েটরে যায় সানিয়া। অপারেশণ সফল হয়। ভেবেছিল চোখ খুলেই শোভনকে দেখতে পাবে। কিন্তু না। একটু পর সাইম আসে। সানিয়া অনেক জানতে চাইলে শেষে বলে, "কোথাও কোনো টাকা না পেয়ে শেষমেষ শোভন তার কিডনী দুটো বিক্রি করে অপারেশণের টাকা যোগাড় করে।"
এই কথা শুনে সানিয়ার চিৎকার হাসপাতালের দেয়ালে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি তোলে। কিন্তু ততক্ষণে শোভন চলে গেছে না ফেরার দেশে। সানিয়া একবার বলতেও পারল না তার ভালোবাসার কথা। ফিরে পেয়েও পেল না। সত্যি শোভন তাকে ভালোবাসত। তার ভালোবাসায় কোনো খাঁদ ছিল না।
নিজের জীবন দিয়ে শোভন তার ভালোবাসা জয় করল। সে প্রমাণ করল- "সত্যিকার ভালোবাসা কখনো হারে না। চির অমর হয়ে থাকে।"
~I Love U, Sania~

|| End ||





Valobasar Joy Part - 2

Story : Valobasar Joy

Writer : Tariqul Islam Shovon


"তোর জন্য আমি বণ্য, মাতাল অনুভব জুড়ে সব শুন্য..."
মৃদু শব্দে গানটা শুনছিল শোভন।হঠাৎ তার মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল। ডিসপ্লেতে সানিয়ার নাম ভেসে উঠেছে। শোভন রিসিভ করল।
_হ্যাঁ, ম্যডাম বলুন।
_কি করছ?
_এইত গান শুনছিলাম। তুমি?
_তোমার কথা ভাবছিলাম। হি হি
_হুম।
_এই বিকালে দেখা করতে পারবা?
_উমম.. দেখি।
_দেখি কেন!!
_ব্যস্ত থাকলে তো দেখা করতে পারব না।
_আমার সাথে দেখা করতে গেলেই সব ব্যস্ততা। হুহ হুহ
_আচ্ছা ঠিক আছে। দেখা করব।
_সত্যি! তুমি না..
_কি আমি?
_বলব না। হি হি
_ unsure emoticon
এরকমই চলতে থাকে ওদের খুনসুটি। একজনকে ছাড়া অন্য জন যেন এক মূহুর্ত থাকতে পারে না। এদিকে শোভন ওর মনের কথাটা বলতে গিয়েও সাহসে কুলায় না। তো একদিন শোভন ভাবল যে, আজকে সব বলবে সানিয়াকে। যা হবার হোক।
পার্কে বেঞ্চের ওপর দুজনে পাশাপাশি বসে আছে। শোভনই আগে কথা শুরু করল।
_সানিয়া একটা কথা বলার ছিল তোমাকে।
_হুম বল।
_I Love U, Sania.
মূহুর্তেই সানিয়ার হাসি মাখা মুখটা কালো মেঘে ঢাকা পড়ল। সানিয়া কিছু না বলেই উঠে চলে যায়। শোভনের ডাকে ফিরেও তাকায় না সে। শোভন হতবাক!
কথাটা বললে যে সানিয়া এইভাবে রাগ করে চলে যাবে, তা শোভন বুঝতে পারেনি। অনেক ফেরানোর চেষ্টা করেছে সানিয়াকে। কিন্তু সানিয়া শোভনের কোনো কথাই শুনলো না। হঠাৎ করেই বুকের ভেতর শুন্যতা অনুভব করল শোভন। কিছুই ভাবতে পারছে না। নিজেকে বড় একা মনে হচ্ছে।
এদিকে বাষায় ফিরে সানিয়া খুব কান্না করছে। তা দেখে ওর মা কান্নার কারণ জানতে চাইল। সানিয়া কিছুই বলল না। হঠাৎ করে শোভনের কল আসে সানিয়ার মোবাইলে। কিন্তু সানিয়া রিসিভ করে না। সানিয়ার মা কলটা রিসিভ করে।
_হ্যালো কে?
_আন্টি, আমি সানিয়ার বন্ধু। সানিয়াকে একটু দেবেন প্লীজ?
_বাবা, সানিয়াতো এখন কথা বলতে পারবে না।
_আন্টি, ওকে খুব দরকার।
_আচ্ছা বাবা তুমি তাহলে আমাদের বাষায় আসো।
_আচ্ছা আমি এক্ষুণি আসছি।
শোভন দ্রুত সানিয়াদের বাষায় চলে যায়। সানিয়া তখনো কাঁদছে। শোভন সবকথা খুলে বলে সানিয়ার আম্মুকে। চুপচাপ সব শোনে সানিয়ার আম্মু এবং শোভন লক্ষ্য করে যে তার চোখে পানি। শোভন কেমন যেন একটা রহস্যের মধ্যে পড়ল।
তারপর সানিয়ার আম্মু যা বলল। তা শুনে শোভন নির্বাক হয়ে গেল। আর সানিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
আন্টির কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছে না। কি করে সম্ভব এটা?
সানিয়ারো ছিল খুব সুন্দর সাজানো একটা জীবন। আর ছিল পথচলার একজন সঙ্গী। সানিয়া ছেলেটাকে খুব ভালোবাসত। ছেলেটাও সানিয়াকে ভালোবাসত। সবসময় একজন আরেকজনের পাশে থাকত। কেউ কাউকে চোখের আড়াল হতে দিত না। একদিন সানিয়া অসুস্থ্য হয়ে পড়ল। ডাক্তার জানালো তেমন কিছু না। কিন্তু এভাবে প্রায়ই প্রচন্ড মাথা ব্যথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ত সানিয়া। ডাক্তার এক্স-রে করার পর জানায় সানিয়ার ব্রেণের পাশে একটা টিউমার আছে। যেটা অপারেশণ না করালে আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে অতিবাহিত হবে। অপারেশণ করাতে লাখ খানেক টাকা লাগবে। এত টাকা সানিয়ার পরিবার জোগাড় করতে পাড়বে না। যার সাথে সানিয়ার সারাজীবন থাকার কথা ছিল সেই আজ এই সমস্যার কথা জেনে সানিয়ার থেকে আস্তে আস্তে দূরে চলে যায়। ছেলেটার মুখ থেকেই সানিয়া তার অসুস্থ্যতার কথা প্রথম জানতে পারে। সানিয়া কথাটি মেনে নিতে পারেনি। সে ভেঙে পড়ে। তার পরিবার তাকে সবসময় হাসি-খুশী রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু সানিয়া তো জানে তার মৃত্যু বেশী দূর না। সেই থেকে সানিয়া তার অনিশ্চিত জীবনের সাথে কাউকে জড়াতে চায় না।............|

Valobasar Joy Part - 1

Story : Valobasar Joy

Writer : Tariqul Islam Shovon


মোবাইলে রিং বাজছে। সাইম হাতরে মোবাইলটা নিয়ে লাল রঙের বাটনে চাপ দিয়ে কলটা কেটে দিল। আবারো মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠলো। এবারো সাইম কলটা কেটে দিল। ৩য় বার আবার কল আসল। ঘুম ঘুম চোখে কলটা রিসিভ করে বলল,
_হ্যালো কে?
_কে মানে! আমি প্রজাপতি।
_কোন প্রজাতি?
_এবার কিন্তু বেশী বারাবারি হয়ে যাচ্ছে। প্রজাতি না প্রজাপতি। আর আজকে আমাদের দেখা করার কথা ছিল। আর তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো!
সাইমের ঘুম কিছুটা হালকা হল।
_ও প্রজাপতি তুমি? I am sorry বাবু। আচ্ছা আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি। ঠিক আছে।
প্রজাপতি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কলটা কেটে দেয়। সাইম তাড়াতাড়ি করে উঠে ফ্রেস হয়। তারপর গোছগাছ হয়ে নাঈমকে খুঁজতে থাকে। নাঈম হল সাইমের বন্ধু। পড়ালেখায় বেশ জিনিয়াস। বেশির ভাগ সময় একা একা উদাস মনে বসে থাকে। নাঈম এখন বারান্দায় বসে আছে। সাইম এসে বলল,
_নাঈম ১০০০টাকা দে।
নাঈমের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে সাইম। অনেকক্ষণ রাস্তায় দাড়িয়ে থেকে একটা রিক্সা পেয়ে উঠে পড়ল তাতে। ঐদিকে প্রজাপতি তো রাগে পুরা পেট্রোল বোমা। একটু পরই বিস্ফোরিত হবে। আবার কল দেয় সাইমকে। এদিকে সাইম জ্যামে পইড়া বইসা আছে। ষ্ক্রীণে প্রজাপতির নাম দেখে ভয়ে ভয়ে রিসিভ করে। ওপাশ থেকে চিরচেনা কন্ঠ বলে ওঠে,
_ ১০মিনিটের জায়গায় ১ঘন্টা হয়ে গেল। কৈ তুমি?
সাইম তার একটা হাত উপরে তুলে ফোনে প্রজাপতিকে বলল,
_ তোমার পিছনে। আমার হাত দেখতে পাচ্ছো?
প্রজাপতি পিছন ফিরে সাইমকে না দেখতে পেয়ে,
_ কৈ দেখি না তো।
_ আসলে বাবু, আমি জ্যামের মধ্যে আটকা আছি। ৫মিনিটের মধ্যে চলে আসব। সত্যি।
_ কি! তুমি জ্যামে বইসা আমার সাথে মজা নিতাছ? থাক, তোমার আসার দরকার নাই। আমি চললাম। আর দেখা করব না।
_ বাবু আমার ক...টুট.টুট.টুট
সাইম প্রজাপতিকে কল করল। ওপাশ থেকে মধুর সুরে বলল, "আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন,তা এই মূহুর্তে ব্যস্ত আছে.." রিক্সা থেকে নেমে হাঁটা শুরু করল। একটা গোলাপও কিনে নিল। কারণ গোলাপ প্রজাপতির খুব পছন্দের।
গোলাপটি পিছনে রেখে সাইম প্রজাপতির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রজাপতি অভিমানে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নেয়। এবার সাইম প্রজাপতির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে গোলাপটি প্রজাপতির দিকে এগিয়ে দেয়। গোলাপটি দেখে প্রজাপতির রাগ কিছুটা কমে। সে গোলাপটি নিয়ে সাইমের গালে ঠাস করে একটা চড় দেয়। সাইম হতভম্ব। তারপর প্রজাপতি সাইমকে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে,
_ তুমি খুব পঁচা। সবসময় আমাকে কাঁদিয়ে খুব মজা পাও তাই না!
_ আর এরকম হবে না। সরি।
_ চড়ে ব্যথা পাইসো?
_ একটু জোড়ে দিসো। সমস্যা নাই। tongue emoticon
তারপর দুজন দুজনকে ভালোবাসার আবেশে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
ঐদিকে শোভন। এও সাইম, নাঈমের বন্ধু। এরা তিনজন একসাথে থাকে। খুব মজবুত ফ্রেন্ডশীপ ওদের। শোভন রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। হঠাৎ করেই তার মনে হল মোবাইলে ব্যলেন্স নেই। রিচার্জ করা দরকার। তাই সে দোকানে গেল।
_ মামা একটা নাম্বার উঠাও। 01792055514 (কাল্পনিক) হুম মামা। ৫০টাকা দেও।
রাত হয়ে গেছে। সামিহাকে ফোন করতে যাবে।সে বুঝতে পারল মোবাইলে ব্যলেন্স নেই। অর্থাৎ দোকানদার এখনো টাকাটা পাঠায় নি।
আসলে সে বুঝতেও পারল না ভবিষ্যতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে!
যা ভেবেছিল তাই হল। টাকা রং নাম্বারে চলে গেছে। দোকানদার ভুল শোনায় 4 এর জায়গায় 5 দিছে। যা গেছে তো গেছে। পুনরায় নাম্বার উঠাইয়া টাকা পাঠাইয়া দিল দোকানদার। বাষায় ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ছাদে গেল শোভন। ও ভাবল ঐ নাম্বারটাতে কল দিয়ে দেখি, টাকাটা পাওয়া যায় কি না। শোভন কল করল। ওপাশ থেকে মেয়েলী একটা কন্ঠ ভেসে এল। অপূর্ব একটা কন্ঠ।
_কি হল কথা বলছেন না কেন! কাকে চাই?
_ইয়ে মানে, আসলে সকালে মোবাইলে রিচার্জ করতে গিয়ে ভুল করে টাকাটা আপনার নাম্বারে চলে যায়।
_হুম। বুঝলাম। তো কি করব এখন!!
_আসলে আমরা ষ্টুডেন্ট। বুঝেনইতো, আমাদের এক টাকা হারালেও কষ্ট লাগে।
_নাম কি আপনার? কিসে পড়েন?
_শোভন। ইন্টার 2nd ইয়ার। আপনি?
_আমি সানিয়া। আমরা সেইম ইয়ার।
_ওহ! ভালোই তো।
_কাল বিকাল ঠিক ৫টায় কলেজের সামনে আসবেন। ঠিক আছে?
_o..ok.
আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ওরা। তারপরদিন বিকাল ঠিক ৫টায় শোভন ওদের কলেজের সামনে দাড়ায়। কিছুক্ষণ পর সানিয়া আসে।
_দুঃখিত। আসলে একটা কারণে দেরী হয়ে গেল।
_না না ঠিক আছে।
_চলুন ক্যাফে গিয়ে বসি।
শোভন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানিয়ার দিকে। মায়াবী একটা চেহারা।
কিছুক্ষণ পর সানিয়াই নিরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করে। সানিয়া কফি খাচ্ছে। একটার পর একটা কথা বলছে আর হাসছে। শোভন যেন চোখ ফেরাতে পারছে না। এত সুন্দর হাসি যে কেউ এর প্রেমে পড়বে নিশ্চিত।
_কি ব্যপার কফি খাচ্ছেন না কেনো?
_ও হ্যাঁ, খাচ্ছি তো এই যে।
বলেই ষ্ট্রতে ঠোঁট লাগিয়ে লম্বা একটা চুমুক দিল।
_আচ্ছা আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?
_ইয়ে মানে, না।
_হাহাহাহা মিথ্যা বলছেন কেনো?
_আজিব! মিথ্যা কেন বলব? রিয়েলি নাই। যেই না চেহারা তার উপর আবার গার্লফ্রেন্ড।
_ঠিক বলছেন। আপনাকে দেখতে গাধার মতই লাগে। হাহাহাহা
আবার সেই মন ভুলানো হাসি। শোভন মুচকি হাসি দিলো। তারপর আর কিছুক্ষণ কথা বলে সানিয়াকে বাষায় পৌছে দিয়ে শোভন বাষায় আসলো। রুমে ঢোকার সাথে সাথেই সানিয়ার কল।
_হ্যাঁ বলো।
_বাব্বাহ! আপনি থেকে তুমি?
_হুম। তুমিও আমাকে তুমি করে বলবা।
_হুম। বাষায় পৌছাইছ?
_হুম। তুমি ঠিকমত গেছো তো?
_হুম। আচ্ছা রাতে কথা হবে। আম্মু রুমে চলে আসছে। Bye. Take Care
_Bye. Take Care
রাত ১০টায় ছাদে উঠলো শোভন। একটা গোল্ডলীফ ধরালো। একটান দিয়ে ফেলে দিলো। আজ মনটা খুব ভালো তাই সিগারেট খাবে না।...............