সব ধরনের ভাল বাসার গল্প পেতে এই ব্লগটি সব সময় ভিজিট করেন
সব ধরনের SMS পেতে ও এইখনে ভিজিট করেন

বৃষ্টিকথন


আমি প্রাণপন চেষ্টা করছি, আমার চোখে যেন পানি না আসে। বৃষ্টি নামের সার্থকতা বজায় রাখার জন্য হুটহাট চোখে বর্ষন ঘটানো আমার ভীষন অপছন্দের একটা কাজ। তাছাড়া এত তুচ্ছ ব্যপারে বসে বসে কান্না করার মত বাড়তি সময়ও আমার নেই। কিন্তু একটু আগে যে ঘটনাটা ঘটলো সেটা মনে করেই আমার গা রি রি করছে। মামী সুযোগ পেলেই আমাকে এভাবে অপমান করে। মাঝে মাঝে মনে হয় এখানে না থেকে কারো বাসায় কাজটাজ করে খাই। এমনিতেও এ বাসায় আমি বুয়া ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু আমার সব ইচ্ছার মত এই ইচ্ছাটাও আমি বুকে চেঁপে রাখি। এটা অবশ্য ভয়ংকর ধরনের ইচ্ছা, তবে আমার অনেক নিরীহ ইচ্ছাও আমাকে বুকে চেঁপে রাখতে হয়।


যেমন একটু আগে মামীকে কয়েকটা কঠিন কথা শোনাতে খুব ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু ইচ্ছেটা চেঁপে যেতে হয়েছে। নীচে বসার ঘরে রবিন ভাইয়ের বন্ধুরা এসেছে। মামী আমাকে ওদের চা বানিয়ে দিতে বললো। চা বানাতে আমার কোন আপত্তি নেই, কিন্তু সমস্যা হলো সেই চা নিয়ে আমাকেই নীচে যেতে হবে। আর এই ব্যপারটায় আমার অনেক আপত্তি আছে।

ছেলেগুলোকে ঠিক মানুষের পর্যায়ে ফেলা যায়না। এদের দেখলেই আমার পেট মোটা কুৎসিত মাকড়শার কথা মনে হয়। মাকড়শা যেমন জাল বুনে শিকারের জালে আটকা পড়ার অপেক্ষায় থাকে, এরাও তেমনি অপেক্ষায় থাকে। পার্থক্য হলো এরা শুধু মানুষ শিকার করে, তাদের নোংরা কুতকুতে চোখগুলো দিয়ে।

আমি মামীকে শুধু বললাম, আমি যাবোনা। তার উত্তরে মামী যে ক’টা বাক্য বলেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভদ্র্র বাক্যটা হল, “আমার শরীর দেখে এদের মধ্যে কেউ যদি আমাকে বিয়ে করতে রাজী হয় তাহলে শুধু আমার বাবা মাই না, আমার মামা মামীও বেঁচে যান।” এই কথার পর আর কোন কথা থাকতে পারেনা, তাই আমি বাধ্য মেয়ের মতো গিয়ে ওদের চা দিয়ে এলাম। আর সাথে করে কিছু কুৎসিত মন্তব্য নিয়ে ফেরত এলাম।

দুবছর আগেও যদি কেউ আমাকে এসব মন্তব্য করতো, আমি লজ্জ্বায় অভিমানে মারা পড়তাম। অথচ এখন দিব্যি আমি রাতের খাবারের জন্য রান্না চাপাচ্ছি। এসব কথা আজকাল সয়ে যায়। নইলে দুবছর আগে আমিই কি কখনো ভেবেছিলাম মামী এভাবে কথা বলতে পারে !!!!

মামীর পুরোনো দিনের আচরনের কথা মনে করে বোধহয় একটু জোরেই হেসে উঠেছিলাম। মামী ধমকে বলে উঠলো

-   কিরে, কোন পেয়ারের মানুষের কথা মনে পড়লো এখন? হাসতে হাসতে পাতিলের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছিস?

আমি কথার জবাব না দিয়ে ওই দিন গুলোর স্মৃতি ভাবতে লাগলাম…..

২.

আমার গ্রামের কথা মনে হলেই আমার সবার আগে মনে পড়ে জল টলটল করা দীঘি টার কথা। বিশাল একটা তীর ছাড়ানো দীঘি, বুক ভর্তি পদ্ম নিয়ে একা বসে আছে। দীঘির জল মায়ের খোলা চুলের মত কালো। আকাশ ছাঁড়িয়ে যাবার নেশায় আকাশি গাছগুলো পাঁড় জুড়ে দাড়িয়ে থাকে। মাঝ দুপুরে দীঘির মাঝে ওদের ছায়া পড়ে। হঠাৎ করে দীঘির রং হয়ে যায় সবুজ। বুকে কাঁপন তুলে সবুজ জলে সূর্য রৌদ্র ছায়ায় লুকো্চুরি খেলে……..

কিংবা, গ্রামের শেষ সীমানার জট ধরা অশ্বথ গাছটা… ডাল পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখির বাসাগুলো….বর্ষার সময়টায় যখন চারদিক ভেসে যেত, আমরা সবাই মিলে এই গাছটার কাছাকাছি চলে আসতাম বৃষ্টির টুপটাপ গান শোনার জন্য। সন্ধ্যার মায়া আলো আর বৃষ্টির রিনিঝিনি মিলে কেমন যেন একটা সুর তৈরী হতো… সেই সুর বুকে লাগলেই মনটা পালাই পালাই করতো। অকারন কান্না জমা হতো বুকে….

এই করে করেই বেড়ে উঠেছি আমি। মা, বাবা আর আমি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা মাত্র তিন। বাড়িটা প্রায় খালিই পড়ে থাকতো, শুধু ছুটিছাটায় যখন মামারা বেড়াতে আসতো, তখন আমাদের কিচিরমিচিরে বাড়ি ভরে উঠতো। আমিও অপেক্ষায় থাকতাম ওই সময়টার জন্য। তিতলীর স্কুল ছুটি হলেই ওরা চলে আসতো।

তিতলী আমার মামাতো বোন। ও আমার তিন বছরের ছোট। হলে কি হবে, বরাবরই ও আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তিতলীর সাথে খেলার, আর মামীর আনা বই এর জন্য অপেক্ষা করতাম। মামী প্রতিবার আমার জন্য নতুন বই নিয়ে যেত… ওরা আসার আগের রাতে উত্তেজনায় আমি ঘুমুতে পারতাম না। আমি বোধহয় খুব লোভী ধরনের ছিলাম। বই পাওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে দীঘির ঘাটে চলে যেতাম। এক নিঃশ্বাসে পুরো বই শেষ করে বুক ভর্তি আনন্দ কিংবা বিষাদ নিয়ে বাড়ি ফিরতাম।

তারপর বাকী দিন গুলোয় আমি আর তিতলী খুলে বসতাম আড্ডার ঝাঁপি…. বছরের এই কটা দিন আমার কাছে ঈদের মতো ছিল। মাও আর সন্ধ্যা হতেই পড়ার জন্য বকাবকি করতো না। মা আর মামী মিলে গুজগুজ করতো সারাদিন…. মামী আর মা বন্ধু ছিল আমার আর তিতলীর মতো…..

রাতে খাওয়ার পর বাবা পুরোনো দিনের গল্প শোনাতেন। নানা মারা যাবার পর থেকে মামাকে বাবা কিভাবে বাবার আদর দিয়ে মানুষ করেছে, লেখাপড়া শিখিয়েছেন সেই গল্প…. কি মজারই না  ছিল দিনগুলো….

কিন্তু একটা সময় কি করে যেন সব বদলে গেল… বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলেন… আমি তখন সবে এসএসসি দিয়ে রেজাল্টের অপেক্ষা করছি। মা অস্থির হয়ে পড়লেন। বেশ কিছু জমি বেঁচে দিতে হলো… কিন্তু বাবা আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেন না। একটা সময় অবাক হয়ে দেখলাম, অনেক ভালো রেজাল্ট হওয়ার পরও মা কেন যেন কলেজে ভর্তি করতে চাইছেন না…

খুব অভিমান হয়েছিলো সেদিন… চোখের পানি লুকোতে এক ছুটে পদ্ম দীঘির পাড়ে চলে গিয়েছিলাম…. দীঘির পাশের ছোট্ট শিউলি গাছটা আমার বন্ধু… কিন্তু সেদিন বোদহয় আমার কষ্ট দিন ছিলো… আমার বন্ধু বাতাসের সাথে কানাকানিতে মগ্ন হয়ে ছিলো… ঐ গাছটার নীচে ক্লান্ত হয়ে বসেছিলাম আমি.. মনে হচ্ছিলো যেন অনন্তকাল কাটিয়ে ফেলেছি… কখন যে দিনের শেষ মায়া আলো মিলিয়ে সন্ধ্যা হয়েছে টেরই পাইনি…. মা যখন খুঁজতে এসেছে, আমাকে ঘিরে তখন লক্ষ জোনাক আলো… সেদিননই প্রথম বুঝেছিলাম, না পাওয়ার কষ্ট বুকের কোথায় লাগে…
মামার বোধহয় আমার কষ্ট দেখে খুব মায়া হচ্ছিলো। তাই সাথে করে এখানে নিয়ে এসেছে। গত দুবছর আমি এখানে… মামীর ফুটফরমাস খাটি, আর সময় পেলে লেখাপড়া করি……

৩.

আমি আর তিতলী এক বিছানায় থাকি। মেয়েটা চুড়ান্ত বাচাল হয়েছে। রোজ রাতে ঘুমুতে এলেই সে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসবে। সারাদিন স্কুলে কি কি হয়েছে তার সবটা আমাকে না শোনানো পর্যন্ত তার স্বস্তি নেই। আর আমাকেও অবশ্যই প্রতিটা সমস্যার কথা শুনে তার সমাধান দিতে হবে।ওর হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই…..

-   বৃষ্টিপু, আজ তোমার কি হয়েছে রে? সেই সন্ধ্যা থেকে দেখছি কোথাও ডুবে আছো…
-   তিতলী, তোকে একটা কবিতা শোনাই, শুনবি?
-   তোমার নির্ঘাত আজ কিছু হয়েছে…. রোজ এত বলি শোনাও না। আজ নিজ থেকে কবিতা শোনাতে চাইছো!!


-   একদি চাঁদ উঠবে না, সকাল দুপুরগুলো
মৃতচিহ্নে স্থির হয়ে রবে;
একদিন অন্ধকার সারা বেলা প্রিয় বন্ধু হবে,
একদিন সারাদিন সূর্য উঠবে না।

একদি চুল কাটতে যাব না সেলুনে
একদিন নিদ্রাহীন চোখে পড়বে ধুলো।
একদিন কালো চুলগুলো খ’সে যাবে,
কিছুতেই গন্ধরাজ ফুল ফুটবে না।

একদিন জনসংখ্যা কম হবে এ শহরে,
ট্রেনের টিকিট কেটে
একটি মানুষ কাশবনে গ্রামে ফিরবে না।
একদিন পরাজিত হবো।

একদিন কোথাও যাব না, শূন্যস্থানে তুমি
কিম্বা অন্য কেউ বসে থেকে বাড়াবে বয়স।
একদিন তোমাকে শাসন করা অসম্ভব ভেবে
পূর্ণিমার রাত্রে মরে যাব।"  (পূর্ণিমার মধ্যে মৃত্যু, নির্মলেন্দু গুণ)


-   ঘুম যা আপুমনি…. আজ আমার জেগে থাকার রাত…..

৪.
 আমার এইচএসসির রেজাল্ট দিয়েছে। ফলাফল বেশ ভালো হয়েছে। এতটা ভালো হবে তা আমি নিজেও ভাবিনি। আমার রেজাল্টে সবচেয়ে বেশি ঘাবড়ে গেছে মামী। আমি যে এমন রেজাল্ট করবো তা উনি বুঝতে পারেন নি। তারপর অবশ্য সবাইকে ফলাও করে বলে এবং বুঝিয়ে বেড়াচ্ছেন, সবই তার কৃতিত্ব। এই সব কিছুর মধ্যে একটাই ভালো জিনিস হয়েছে। আমার মাকে আমি বহুদিন পর দেখতে পেয়েছি। আমি যখন মাকে জড়িয়ে ধরলাম, আমার এত্ত কান্না পেলো, বলার মত না। আমি মায়ের বুকের ভেতরে ঢুকে হু হু করে কাদছিলাম। কষ্টে আমার বুকটা ভেঙে যাচ্ছিলো। মা অবশ্য কিছু টের পান নি। ভেবেছেন, রেজাল্টের আনন্দে হয়ত কাদছি। আমার তাতে ভালোই হয়েছে। আমি কিছুতেই চাইনা, মা আমার কষ্টগুলো বুঝে ফেলুক। আমার মা হাসলেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। আমি খুব চাইছিলাম, মা আরো কয়েকটা দিন থাক। কিন্তু মায়ের সে উপায় কোথায়?

দুটো দিন কাটিয়েই মা গ্রামে চলে গেলো। আমি রয়ে গেলাম এই বন্দী নগরীতে। তবে একটা পরিবর্তন আমার জীবনে অবশ্যই ঘটেছে এ কদিনে। আমি কিভাবে কিভাবে করে যেন ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেলাম। এখন দিনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় আমার বাড়ির বাহিরে কাটে। দু একটা বন্ধু বান্ধব আমারও হয়ে গেলো। মামীর কুৎসিত শব্দগুলো কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাকে স্পর্শ করে না। আমি প্রজাপতি হয়ে থাকি আমার নিজের ভুবনে।

ক্লাসরুম, স্যার ম্যাডামগুলো, ডিপার্টমেন্ট চত্বর এমনকি ফুল বিক্রী করে যে পিচ্চিটা, সেও আমার আপন হয়ে গেলো। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে সকাল না হতেই কিচিমিচি শব্দে চারিদিক ভরিয়ে তোলে। সবার গল্প আলাদা। সবার চাওয়া পাওয়া আশা নিরাশার কাহিনী পৃথক। তাদের সবার আড়ালে আমি নিজের মত নিজেকে নিয়ে মেতে থাকি। নিজের জন্য কিছু একান্ত সময় খুঁজে পাওয়াটাও তো ভাগ্যের ব্যাপার।

আমার সামর্থ্য থাকলে আমি হোস্টেলে উঠে যেতাম। কিন্তু মামী তার বিনে পয়সার কাজের মেয়েটাকে কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাইলেন না। তাতে কি? আমি ভালো আছি, ভিষণ ভালো।

৫.
আজ ভার্সিটি বন্ধ। কি যেন একটা ঝামেলা হওয়ায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেছে কতৃপক্ষ। টুকটাক কাজ শেষে রুমে বসে আছি কখন থেকে। তিতলীর কোন বান্ধবীর জন্মদিন, মামীকে নিয়ে সে গেছে জন্মদিনের উৎসবে। মামী থাকলে এখন বসে থাকা যেতো না, কিছু না কিছু কাজে লেগেই থাকতে হতো। কিন্তু এখন এভাবে চুপচাপ বসে থাকতেও বিরক্ত লাগছে। আমাকে আরো বিপদে ফেলতেই কি না কে জানে, রবিন ভাই তার বন্ধুগুলোকে নিয়ে হাজির হয়েছে।

দরজা খুলতেই তীব্র ঝাঁজালো একটা গন্ধ নাকে বাড়ি খেলো। সব ক’টা মদ গিলে এসেছে। চোখমুখ লাল করে রবিন ভাই আমাকে চা বানানোর জন্য বললেন। আমি এই প্রথম মামীর অভাব অনুভব করলাম তীব্রভাবে।

কতগুলো চেনা অচেনা ছায়া আমাকে ঘিরে ধরলো। আমি ভাসলাম, ডুবলাম। কখনো পাথরের মত ভারী, কখনো তুলার মত হালকা হলাম। মনে হলো মা আমাকে ফিসফিসিয়ে ডাকছে। আমি চেঁচিয়ে মায়ের ডাকের জবাব দিলাম “মা”…

ডাকতেই থাকলাম, মা আমার শব্দ শুনতে পেলো না। নতুন কোন শব্দে আমার ডাক চাপা পড়ে গেলো। হিসহিস শব্দ, পিশাচের হুংকার, হায়েনার চিৎকার। আমার গলা চেপে ধরলো কেউ। ঠোট চেপে ধরে থামিয়ে দিলো চিৎকার। মনে হলো আমার সারা গায়ের উপর দিয়ে কিছু সাপ কিলবিল করছে। প্রতিটা রক্তকণা বিদ্রোহ করছে আমার সাথে। আগুন লেগে গেছে সারা গায়ে। অসহ্য ব্যাথায় আমি লাল নীল হলাম। আমি কাঁদলাম, চেচালাম, প্রত্যেকের পা ধরে মিনতি করলাম, কিন্তু পিশাচগুলোর কাছে আমার কান্নার কোন দাম নেই। এই সীমাহীন যন্ত্রণার বুঝি কোন সমাপ্তি নেই। একটা সময় আমার নিজের গলার স্বর আর আমার কানে পৌছুলো না। অনুভূতিগুলো ঝাপসা হতে হতে হারিয়ে গেলো।

আমি ডুবে যেতে লাগলাম শুন্যে কোথাও। আমার মাকে দেখলাম। হাত বাড়িয়ে আমাকে ডাকছে। ছুট লাগালাম মার দিকে। পদ্ম দিঘীটা বুক ভর্তি পদ্ম নিয়ে আমাকে এগিয়ে নিতে এলো। শিউলী গাছটার তলে লক্ষ তারার চাদরের নীচে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। কানের কাছে পৈচাশিক কিছু হাসি আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে যেতে এক সময় বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দে পরিনত হলো। আমি ভিজতে লাগলাম অবিরাম বর্ষণে। আহ কি শান্তি......

কিন্তু একটা সময় সেই প্রশান্তিরও সমাপ্তি হলো। সমস্ত শরীরে অসহ্য ব্যাথা নিয়ে আমি আবারও জেগে উঠলাম। আমার চারপাশ ঘিরে আছে একটা নদী। নদীতে পানির রঙ লাল। লাল নদীর ঠিক মাঝখানে ছিন্নভিন্ন আমি বসে আছি, একা। টিমটিম করে ছোট্ট বাতিটা জ্বলছে। আমার নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টাকে বৃথা করতেই বুঝি তার এই জ্বলে ওঠা।

একবার ভাবলাম হারিয়ে যাই। নিজেকে স্মৃতি করে দিই সবার কাছে। ফের মায়ের কথা মনে পড়লো। মাকে দেখি না কতদিন!! বাবার পাশে শুয়ে ঘুমিয়েছি সেই কবে!! তারপর তিতলীর কথা মনে পড়লো। এসেই তো কবিতা শোনানোর বায়না ধরবে। আমি হারিয়ে গেলে রোজ তার গল্প ঝাঁপির গল্পগুলো শুনবে কে? ফুল বেঁচে যে ছেলেটা, তাকে বই কিনে দেবো বলেছিলাম... না দিয়েই চলে গেলে সে পড়বে কি করে? বেচারার যে খুব ছাত্র হওয়ার সখ...

পিশাচ গুলোর কথা ভাবলাম। এত সহজে তাদের যেতে দিই কি করে? ওদের কিছুই হবে না, তা কি করে হয়!! আমি হারিয়ে যাবো আর ওরা রয়ে যাবে এখানে, এভাবে?? কাল যদি আমার তিতলীর সাথে... থই থই লাল পানিতে পা ফেলে আমি হেঁটে চললাম পাশের ঘরে। অনেক কাজ বাকী এখনো। মাঝে হয়ত ডুকরে কাঁদছিলাম আমি। কিন্তু তাস পেটানোর আর হাসির হল্লার শব্দে শুনতে পায় নি কেউ। আজ আমিও বলবো। আজ আমারও কিছু করার আছে। অসুর বধ করবো বলে পা টেনে এগিয়ে চললাম সামনের দিকে। জলন্ত এক জোড়া চোখ আর ছোট্ট একটা কুড়ুল হাতে……

একটি ভালবাসার গল্প


আমি জীবনে যে ভালবাসিনি এমন না, আমিও একদিন ভালবেসেছিলাম । অনেক ছোট থাকতে। তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি । মোটামুটি দুষ্টুও ছিলাম বটে। দুষ্টামি করার সকল উপায় ভালভাবেই জানা ছিল আমার। স্কুল জুড়ে দুষ্টামিতে আমার নাম ছিল হিটলিস্টে। ক্লাস ফাকি আর স্কুল পালানো ছিল আমার খুব পছন্দের। তবে মেয়েদের ব্যাপারে ছিলাম খুবই ভদ্র। এই ধরনের দুষ্টামিতে যখন হচ্ছিলোনা, তখন বন্ধুরা বলল একটা প্রেম কর। তারপর তারা একটা মেয়েও পছন্দ করে দিল। দেখলাম মেয়েটা সত্তিই অনেক সুন্দর।বেশ লম্বা। মেয়েটাকে আমি আগেও অনেকবার দেখেছি, কিন্তু এভাবে কোনদিন ভাবিনি। সেদিন অনেক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। দেখলাম সারাদিন শুধু মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছি। তখন থেকেই বুঝতে শুরু করলাম ভালবাসা কি। সেদিন রাতে ঘুম একদমই হচ্ছিলনা। পরদিন স্কুলে গেলাম, আর তাকে দেখলাম নতুন করে। মনে হল শুধু এই স্কুলে না, সে যেন পৃথীবিতে সবার চেয়ে সুন্দর। সত্তিই ভালবেসে ফেললাম তাকে। স্কুলে সবসময় তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে। তাকে দেখলে আমার বুকে অন্যরকম একটা অনুভুতির সৃষ্টি হতো। নিজের অজান্তেই আমার মুখের কোনে অদ্ভুত একটা হাসি খেলে যেত। খুব ইচ্ছা হতো তাকে আলতো করে একটু ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু তার মুখোমুখি হলে তার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না, মাথা নিচু করে ফেলতাম। আমার মনে আছে সেদিন থেকে আমি আর একদিনও স্কুল কামাই করিনি। তখন মনে হতো শুক্রবারেও ক্লাস হলে খুব ভাল হতো। দুষ্টামি একেবারেই ছেড়েদিয়েলাম। দুষ্টামিতে হিটলিস্টে থাকা ছেলেটি হটাৎ এত ভদ্র হয়ে গেলো এটা নজর এড়ালনা কারোরই, এড়ালনা তারও। ভালবাসার কথা সরাসরি বলতে পারলাম না তাকে, অবশ্য আমার অবস্তা দেখে তার একবিন্দুও বুঝতে বাকি ছিলনা, সে বাপারে আমি ছিলাম নিশ্চিত। ব্যাপারটা বললাম ওর এক বান্ধবীর কাছে, যে আমাদের এলাকাই থাকে। ও শুনে হাসল আর বলল সাকিলা সব জানে। সেদিন খুব লজ্জা পেয়েছিলাম আমি। ও দুঃখিত, মেয়েটার নাম সাকিলা। যেহেতু তখন মোবাইলের এত প্রচলন ছিলনা সেহেতু আমাদের ভেতর কথা আদান-প্রদান করে দিত তার ওই বান্ধবী। এভাবে কেটে গেল কিছুদিন, হঠাৎ দেখলাম সে একদিন স্কুলে আসতে দেরি করছে,, ভাবলাম ওতো দেরি করে স্কুলে আসেনা। ওর বাসাটা ছিল স্কুলের পাশেই, চলে গেলাম ওদের বাসার পাশে। ওখানে দেখা হল আমার এক বন্ধুর সাথে, জিজ্ঞেস করলাম শাকিলা দের বাসা কোনটা রে। যে বাসার পাশে দাড়িয়ে ছিলাম আমি জানতাম না ওটাই সাকিলাদের বাসা। সাকিলা জানালা দিয়ে বলল দাড়াও আমি আজ স্যারের সাথে সব বলে দেব। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম কারন আমার আব্বুই স্কুলের হেডমাস্টার । ও যখন স্কুলে আসলো তখন তো ভয়ে আমার অবস্তা খারাপ। আমার অবস্থা দেখে ও হেসে ফেলেছিল সেদিন। কিন্তু ও কিছুই বলল না । আমাদের ব্যপারটা স্কুলে তখনও আমার বন্ধুদের ভেতরই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু জীবনের প্রথম প্রেম তাই নিজেকে আমি আর বেশিদিন কন্ট্রোল রাখতে পারলাম না, সবাইরে বলে বেড়াতাম। কেন জানি খুব আনন্দ লাগত সবাইকে বলতে। কেউ যদি ওর প্রশংসা করত, ওকে সুন্দর বলতো, তাহলে আমার খুব আনন্দ লাগত। অল্প কিছুদিনের মধ্যে জেনে গেল স্কুলের সমস্ত স্যার ম্যাডাম আর ছাত্ররা। আমার ছোট বোনও ওকে খুব পছন্দ করত, একদিন ভাবি বলেও ডেকেছিল। অনেক ভালবাসতাম তাকে, শুধুই বাসতাম না এখনও ভালবাসি আগের মত অনেক অনেক ভালবাসি। ওকে নিয়ে কবিতা লিখতে যেয়ে আব্বুর হাতে ধরাপড়ে মার খেয়েছি একদিন। একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার সাথে ওর সরাসরি এর মধ্যে একটা কথাও বলা হয়নি। দেওয়া হয়নি ১৪ ফেব্রুয়ারিতে একটা ভালবাসার লাল গোলাপ। কখনো সামনে দাড়িয়ে চোখে চোখ রেখে বলতে পারিনি সাকিলা আমি তোমাকে আমার জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসি। আমার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন এখন তোমাকে নিয়ে ঘর বাধা। তবু জানতাম ও আমাকে ভালবাসে। এভাবে ওকে ভালবেসে আমার প্রতিটা দিন সপ্নের মতই সুন্দর কাটছিল। কিন্তু ভালবাসা সবার জন্য না এই সত্যটা প্রমানিত করার জন্য বাস্তবতা আমার এতদিনের সাজানো সপ্নকে এক রাত্রেই ভেঙ্গে দিল। আমাকে করে দিল খুব একা । প্রতি বৃহস্পতিবারের মত কোন এক বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফেরার সময় হলো মন খারাপ যে তাকে একটা দিন দেখতে পারবনা। শনিবার স্কুলে গেলে কিছু মেয়ে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো সাকিলা বিয়ে করলো আমাদের একটু জানালও না। আমি শুনে অস্তির হয়ে গেলাম। কি করব ভাবতে পারলাম না। পরে যখন জানতে পারলাম এটা সত্যি !!!!!!! তখন মনে হল আমি অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারছিনা। ঠিক ঐদিনই খেয়েছিলাম জীবনের প্রথম সিগারেট। তারপর এমনও সময় গেছে একটানা ৪-৫ দিন সূর্যের আলো দেখিনি। একাকী একটা ঘরে তাকে নিয়ে আমার লিখা কবিতা গুলো পড়তাম। কারও সাথে মিশতাম না, সবসময় একা থাকতাম। অবশ্য এর জন্য তার কোন দোষ নেই। ওইদিন তার ফুফুকে দেখতে এসে তাকে পছন্দ করে ফেলে বরপক্ষ। ঘটনাক্রমে তার আব্বুও রাজি হয়ে যাই। শুনেছি সে নাকি অনেক কেঁদেছিল ওইদিন, কিন্তু কেও শোনেনি তার ওই কান্না। অবশ্য প্রতিবেশীরা অনেক বুঝিয়েছিল তার আব্বুকে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। শুনেছিলাম ছেলেটা খুব ভাল পরিবারের এবং ভাল একটা চাকরী করে। তায়ই হয়তো সুযোগটা হাতছাড়া করেনি। তবে ও ঠিকই ভালবেসেছিল আমাকে। ওর বিয়ের তিনদিন পর আমাকে অবাক করেদিয়ে ও স্কুলে এসে আমাকে ডেকে পাঠাল একটা ক্লাস রুমে, আমি যেয়ে দেখি শুধু ও আর ওর বান্ধবী। আমরা তিনজনই চুপকরে আছি, হঠাৎ ও বলল আমি একেবারে চলেএসেছি আমাকে বিয়ে করতে পারবে??? আমি এই কথাটার কোন সঠিক উত্তর খুজে পেলাম না। নিজের অজান্তেই বলে ফেললাম না। নিজের কণ্ঠস্বর শুনে নিজেই চমকে উঠেছিলাম সেদিন। যাকে এত ভালবাসি তাকে এভাবে ফিরিয়ে দিলাম!!!!!!!! না কথাটা বলেই মাথাটা নিচু করে নিয়েছিলাম। একদিকে আমার চোখের জল যেন না দেখতে পায়, আর তার সামনে মাথা উঁচু করার মত সাহস সেদিন আমার ছিলনা, তাই সেদিন আমার না শুনে তার মুখের অবস্থা কেমন হয়েছিলো সেটা দেখতে পারিনি। জানিনা সেদিন সে আমাকে ভুলবুঝেছিল কিনা???? তবে তাকে সেদিন না বলার কারন, তার আগে এক যাইগায় বিয়ে হওয়াটা না। তখন আমি সবেমাত্র নাইনে পড়তাম, তখন আমি যদি তার কথায় রাজি হয়ে তাকে কথা দিতাম, আর যদি সে আমার দেওয়া কথাতে বুক বেধে আমার জন্য অপেক্ষা করত, তখন ওটা আরও খারাপ হতো। হয়তো আমার ছোটবেলাই না বুঝে দেওয়া কথাটার কোন মূল্য দিতনা এই সমাজ, আমার পরিবার। তারপর সে আর ফিরে যায়না তার স্বামীর কাছে। আমাদের স্কুলেই আবার পড়ালেখা করতে থাকে। দেখতে দেখতে কেটেযাই আরও অনেকদিন। প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকা সত্তেও লজ্জায় আর আগের মতোকরে তাকাতে পারিনি তার ওই সুন্দর মুখটির দিকে। যে মুখের দিকে তাকালে একদিন আমার হৃদয় ভরে যেত। তারপর থেকে লুকিয়ে সেই মুখের দিকে তাকালে কষ্টে হৃদয়টা বের হয়ে আসতো, অদ্ভুত হাসির বদলে লাল হয়ে যেত দুই চোখ। বিষয়টা এখানেই থেমে থাকেনি। যেহেতু আমার আব্বু ছিল হেডমাস্টার সেহেতু আমার জন্যই তাকে স্কুলটা ছেড়ে পাশের একটা স্কুলে ভর্তি হতে হয়। তারপর থেকে আর কোন মেয়ের এমনকি কোন ছেলের সাথে আর বন্ধুত্ব করিনি। একা থাকতে পছন্দ করতাম একা একা ঘুরতাম। কারো সাথে মিশতাম না। অধিকাংশ সময় একা বিছানাই শুয়ে তারে নিয়ে লিখা কবিতা গুলো পড়তাম। আমার রুমে আর কাওকে ঢুকতে দিতাম না। মাধ্যমিক পাশ করে একটা কলেজে ভর্তি হলাম। সেখানে শিরিন নামের একটা মেয়েকে ভাললাগলো, কিন্তু ভালবাসতে ভয় পেতাম। অল্পকিছুদিনের মধ্যে মেয়েটা বুঝেগেল ব্যপারটা। হলো বন্ধুত্ত তারপর ভালবাসা। কিন্তু সাকিলার জাইগাটা অন্যকেও দখল করবে এটা মেনেনিতে পারিনি আমি। অবশ্য শিরিন আমাদের ভালবাসাটা গড়াতে গড়াতে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি কোনদিনই তাকে সাকিলার যাইগায় বসাতে পারিনি। নিজের হাতে নষ্ট করেছি আরেকটি ভালবাসা। এখন অবশ্য নিজেকে অনেকটা কন্ট্রোল করতে শিখেছি। নতুন করে কষ্ট পাওয়ার ভয়ে আর কোনদিন কাওকে ভালবাসতে পারিনি। তবুও এখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমাকে ভুল বুঝে ভুলে যেওনা সাকিলা, আমি এখনও তোমাকে আগের মত ভালবাসি। পাঁচবছর পর হটৎ দুইমাস আগে দেখা হয়ে গিয়েছিল ওর সাথে, কথাও হয়েছিল কয়েকটা। বুঝলাম এখনও ভালবাসে আমায়। কিন্তু কতটা সেটা বুঝার মত ক্ষমতা আমার মত অপরাধীর নেই। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হলো তখন। আমি সত্যিই অপরাধী, তা নাহলে এমন একটা নিস্পাপ ভালবাসা থাকতে অন্যকোথাও সম্পর্ক করি কিভাবে। আমাকে ক্ষমা করে দিও সাকিলা। ভাল থেকো।।। আর জেনে রেখ আমি এখনও তোমাকে সেই নাইনে পড়া তাসিন এর মতই ভালবাসি। সে পরে বিয়ে করেছে কিনা???? না সে এখনও বিয়ে করেনি। ও ২০১৩ তে উচ্চমাধ্যমিক দেবে। 

তোমার অপেক্ষায়...


অনেকদিন হয়ে গেল তুমি চলে গেছ...
মোবাইল নাম্বার বদলে ফেলেছ...
Facebook ব্লক করে রেখেছ...
জানি আমাকে ছেড়ে ভালই আছ তবু জানতে ইচ্ছা করছে ...
আমি যখন কান্না করি সেই কান্না কি তোমাকে একটু স্পর্শ করে...
আমার কষ্টে কি তোমার বুকে এখনো রক্তক্ষরণ হয় ..
তুমি কি জানো আজ ও আমি তোমাকে আমার মনএ রেখেছি লক্ষী করে.
তুমি কি জানো আজ ঘুমের ঘোরে তোমার জন্য কেদে উঠি..
তোমার কি মনে আছে শেষ দেখার কথাগুলো ..
তোমার কি মনে আছে আমার কান্না..
তোমার কি মনে আছে তোমার কান্না আমার জন্য
তোমাকে আমি ভালবাসি গতকাল থেকে বেশি আগামীকাল থেকে কম.. আর আমার ভালবাসা কখনই কমবে না তোমার জন্য আমার ভালবাসা শুধু তোমার জন্য...
তোমার অপেক্ষায়......

একটি অদ্ভুত ভালবাসার গল্প...



একটি মেয়ে একটি ছেলেকে পাগলের মত ভালবাসে... ভালোই চলছিল তাদের দিন কাল...
১ বছর পর মেয়েটা খেয়াল করল ছেলেটা তাকে আর আগের মত ভালবাসে না...
তাকে avoid করে চলে... একটা সময় ছেলেটা মেয়েটার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো...
মেয়েটা জানতে পারলো ছেলেটার নতুন গার্লফ্রেন্ড হয়েছে...

মেয়েটা এই বিষয় নিয়ে ছেলেটিকে প্রশ্ন করতেই সে বলে অতীত ভুলে যাও...
মেয়েটা বেইমান বলে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এলো ...
সে কিছুতেই ছেলেটিকে ক্ষমা করতে পারলো না...

এই ঘটনার ৬মাস পরে মেয়েটার কাছে ছেলেটার মৃত্যু সংবাদ এলো
ছেলেটা মারা যাবার আগে মেয়েটার জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছিল...
ছেলেটার এক বন্ধু এসে মেয়েটাকে টা দিয়ে গেলো...
মেয়েটা রাগে চিঠি টা ফেলে রাখলো
রাতে ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ছিল

সে চিঠিটা খুলে পরতে শুরু করলো

বিধাতার করুন পরিহাসে আমরা এক হতে পারলাম না
যেদিন আমি জানলাম আমি আর ৬ মাস বাঁচব সেদিন থেকে বুকে পাথর চেপে তোমার সাথে অভিনয় শুরু করলাম... ভেবেছি তুমি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে...
তাই তোমার থেকে দূরে থেকেছি... যখন তুমি এটা পড়বে আমি তোমার থেকে অনেক দূরে থাকবো... আমার কারনে তোমার চোখে আমি অশ্রু দেখতে পারবো না...
তাই তোমার সাথে এমন করেছি... আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো...

চিঠি টা পরতে পরতে মেয়েটার চোখের জলে চিঠি টা ভিজে গেলো......

৪ বন্ধু হোটেলে বসে মদ খাচ্ছে Bangla Jokes

৪ বন্ধু হোটেলে বসে মদ খাচ্ছে৷Char Bondhu | Bangla Jokes


৪ বন্ধু হোটেলে বসে মদ খাচ্ছে৷

হঠাত্ টেবিলে রাখা
মোবাইল বেজে উঠল৷
চিন্টু : হ্যালো ৷

.
.
মেয়ে : জানু
আমি মার্কেটে আসছি৷
আমি ৫০,০০০ টাকার ১টা গোল্ড
সেট নেই ?
.
.
চিন্টু : হা জানু নাও৷ কোন
সমস্যা নেই।
মেয়ে : সিল্কের
একটা শাড়ী দেখলাম মাত্র ৫০০০
টাকা৷
.
.
চিন্টু : ১টা না ২/৩ টা নাও৷
সাথে অন্য আরও থ্রীপিস দেখ
সেসবও দু চারটা নাও!!
.
.
মেয়ে : Darling তোমার ATM
card আমার কাছে ৷ ঐখান থেকেই
খরচ করছি কিন্তু ? ,
.
.
চিন্টু : সে আবার বলতে হয়৷ তোমার
আর আমারতো একই
কথা৷
যা ইচ্ছে কর কোন সমস্যা নেই।
বলে ফোন রেখে দিল।
.
.
বন্ধুরা : কিরে শালা মাল
খাইয়া টাল হইয়া গেছস??
নাকি আমাগো তোর বড়লোকি ভাব
দেখাইলি??
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
চিন্টু : আরে দুর ব্যাটা
এইসব বাদ দে৷
আগে বল এই মোবাইলটা কার?







ভালবাসার সুখ পাখি

Story : "ভালবাসার সুখ পাখি" | Valobasar Sukh Pakhi
Writer : Unknown


'নাহিদ' - সুদর্শন আর একেবারেই পাগলাটে একটা ছেলে। সারাদিন কাধে একটা গীটার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ভার্সিটির সবাই ওকে গীটার-বয় বলেই ডাকে। নেকা মেয়ে গুলা যেন নাহিদ বলতেই অজ্ঞান। অথচ দুই চক্ষে সহ্য হয়না ছেলেটাকে আমার।
বি.বি.এ -৩য় বর্ষের ছাত্রী আমি। নাহিদ আমার ১বছর এর সিনিয়র। কোন কথাবার্তা ছাড়াই ও হঠাৎ একদিন আমকে প্রপস করে বসলো। কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গেলাম। পেছন ঘুর ঘুর করে বিরক্ত করার ছেলে ও না। কোথা থেকে যেন আমার নাম্বারটা যোগাড় করেছে। প্রতিদিন রাতে শুধু একটা করে মেসেজ করত কখনো ফোন করেনি। কোন রিপ্লাই না দিয়ে শুধু ওর মেসেজ গুলো পড়তাম প্রতিদিন। ব্যাপারটা ধীরে ধীরে ভাল লাগতে শুরু করলো। মনের আড়ালেই কখন ভাল লাগার বীজ বপন করে বসে আছি বুজতেই পারিনি।
পরপর তিনদিন ওর কোন মেসেজ না পেয়ে কেমন যেন অস্থির লাগছিল। পরদিন ভার্সিটিতে মনে মনে ওকে খুজতে থাকলাম। হঠাৎ দেখি সিমির খুব কাছাকাছি বসে ওকে গান শোনাচ্ছে। বুকের ভেতর চেপে থাকা আগুনটা যেন এবার দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো। নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। কিছু চিন্তা না করেই সবার সামনে বলে দিলাম ওকে ভালবাসার কথা। সাথে সাথে একটা মুচকি হাসি দিয়ে পেছন থেকে একটা লাল গোলাপ বের করে দিল। খানিকটা অবাক হলাম। পরে জানতে পারলাম মেসেজ না করা, আমাকে জেলাস করা, পুরোটাই সাজানো ছিল। আর তার প্রধান হাতিয়ার ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী সিমি। চোখের জলটা থামাতে পারলাম না। সবার সামনেই কেদে দিলাম। একটা কান্না মানুষকে এতটা সুখ দিতে পারে জীবনে প্রথম অনুভব করলাম।
শুরু হল ভালবাসার আকাশে কষ্ট সুখের সাত রঙ মিশিয়ে একি স্বপ্ন দুটি হৃদয় দিয়ে আঁকা। ও আমাকে সুখ পাখি বলে ডাকে। ওর পাগলামি গুলা যেন একি সাথে আমকে কাদাই আবার হাসাই। অদ্ভুত একটা অনুভুতি।
আমকে নিয়ে ওর গান। স্বপ্নের ভেলায় চড়ে তারার দেশে যাওয়া। হাত ধরে বৃষ্টিতে ভেজা। মাঝ রাতে আমকে দেখার নাম করে আমার বাড়ির সামনে এসে দাড়িয়ে থাকা। ক্লাস ফাকি দিয়ে মুভি দেখতে যাওয়া। একই স্বপ্ন হাজার বার ভেঙ্গে নতুন করে গড়া। সব কিছু মিলিয়ে যেন আমার একটা পৃথিবী সুখের স্বর্গ ও।
দেখতে দেখতে একটা বছর কেটে গেল। ওর বি.বি.এ শেষ হল আর আমি ৪র্থ বর্ষে উঠলাম। যে ভয়টা বুকের ভেতর সব সময় কাজ করত সেটাই হল। আমার আর নাহিদ এর সম্পর্কের কথাটা বাসাই জানা জানি হয়ে গেল।
আব্বু আম্মুর ইচ্ছের বাইরে আপু পালিয়ে গিয়ে তার ক্লাস-মেট সহেল ভাইয়াকে বিয়ে করেছিল। ওদের ৪বছর এর রিলেশন বিয়ের এক বছরের মাথাই ছাড়াছাড়ি। এ ব্যাপারটাই যেন আমার স্বাধীনতার একমাত্র ঘাতক। সাময়িক ভাবে আমার ভার্সিটি যাওয়া বন্ধ। ফোনটাও আব্বুর কাছে। এক কথায় বন্দি আমি। আপুর ব্যাপারটার পর আব্বু অনেক অসুস্থ হয়ে পরেছিল এখনো সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আব্বুর ইচ্ছের বাইরে কিছু বলা মানে তাকে মৃত্যুর পথে একধাপ এগিয়ে নেয়া। কিছুই বলতে পারলাম না।
এক সপ্তাহের মধ্যে আমার বিয়ে ঠিক করলো আব্বুর ব্যবসায়ী বন্ধু রাজ্জাক আঙ্কেলের ছেলে সুমন এর সাথে। নিঃশব্দে কাদা ছাড়া কিছুই যেন করার নেই আমার।
এদিকে নাহিদ পাগল এর মত চেষ্টা করছে আমার সাথে যোগাযোগ করার। কোন উপায় না পেয়ে সিমিকে আমার বাসায় পাঠালো খোজ নেবার জন্য। মানুষটা আমাকে অন্ধের মত ভালবাসে। এত বড় অন্যায় কি করে করবো আমি। কি করে কাদাবো এই মানুষটাকে। ঠিক করলাম পালিয়ে যাব। সবাইকে ফাকি দিয়ে অনেক কষ্ট করে বাসা থেকে বেরও হলাম। কিন্তু আপুর চলে যাওয়ার পর আব্বু আম্মুর কষ্ট লজ্জা সব কিছুর ছবিটা চোখের সামনে আবারও ভেসে উঠলো। পারলাম না। একটা ফোন ফ্যাক্স এর দোকান থেকে কাদতে কাদতে নাহিদ কে সরি বলে অর্ধেক রাস্তা থেকেই আবার বাসাই ফিরে আসলাম। এসে দেখি প্রত্যাশা অনুরূপ বাসার সবাই চুপচাপ বসে আছে। যে আব্বু আমকে কোন দিন ধমক দিয়ে কথা বলিনি সে আব্বু আমার গায়ে হাত তুললো। সারা রাত কাদলাম। কান্নাই যেন একমাত্র সঙ্গী এখন। না পারছি আব্বু আম্মুকে কষ্ট দিতে না পারছি নাহিদকে কাদাতে।
পরদিন সকালে রাজ্জাক আঙ্কেল এর একটা ফোন আমার জীবনটাতে একই সাথে মুক্তি আর পঙ্গুত্ব দান করলো। ডাক্তার এর মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী আমি কোনদিন মা হতে পারবো না। বিয়েটা ভেঙ্গে গেল। কাঁদবো না মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলব বুজতে পারলাম না। শুধু স্থব্দ হয়ে থাকলাম।
নাহিদ এর সামনে দাঁড়ানোর মত মুখ আমার নেই। সিমির মাধ্যমে ও সব কিছু জানলো। আর সব জেনে শুনেই ওর আব্বুকে দিয়ে আবারও বিয়ের প্রস্তাব পাঠাল আমার বাসাই। প্রথম বার ফিরিয়ে দিলেও এবার আর পারল না। কারণটা সহজ। আব্বু আম্মু স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা লজ্জিত হয়ে নাহিদ এর এক আকাশ সমান ভালবাসার কাছে হার মানল। পাওয়া না পাওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের আর সুখের দিন এটা।
পরদিন নাহিদ এর অনুরোধেই আব্বু আম্মুর অনুমতি নিয়ে ওর সাথে দেখা করতে গেলাম । কথা বলার শক্তিটা যেন হারিয়ে ফেলছি। কাপতে কাপতে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
ও কাছে এসে আমার হাত ধরে বলল- আমি শুধু তোমাকে চাই হেনা আমার আর কিচ্ছু দরকার নেই বিশ্বাস করো আমার শুধু তোমাকে হলেই চলবে। বল আমকে আর কখনো ছেড়ে যাবা নাতো ?
উত্তরে কিছুই বলতে পারলাম না। বুক ফেটে কান্না এলো। ওর এই সীমাহীন ভালবাসার কাছে আমি খুবি নগণ্য। কোথাই রাখবো ওর এতোটা ভালবাসা। কি দিয়ে শোধ করবো আমি। সুখের কান্নাটা আর থামাতে পারলাম না। চোখের সামনে থাকা স্বর্গটার দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাদলাম। ও হাত দিয়ে চোখের জ্বল টুকু মুছে দিল।
ওকে হয়তো বাবা হবার সুখটা কোন দিনও আমি দিতে পারবো না। তবে আমার শেষ নিঃশ্বাসটা পর্যন্ত এক বিন্দু কষ্ট পেতে দিবো না ওকে। তাতে আমার মরন হলেও হাসতে হাসতে মেনে নেবো সেই মরণটাকে।
আমি ভালবাসি নাহিদ। অনেক বেশি ভালবাসি তোমাকে।

END

Valobasar Joy Part - 3

Story : Valobasar Joy

Writer : Tariqul Islam Shovon


শোভন ভাবে, এইভাবে সুন্দর একটা জীবন শেষ হয়ে যাবে। তা তো সে হতে দিতে পারে না। ঠিক তখনই সানিয়াদের পরিবারকে আশার আলো দেখায় শোভন। পুরোপুরি সাপোর্ট দেয় সানিয়াকে। এখন তার অনেক কাজ। কথা যেহেতু দিয়েছে, সেহেতু যে করেই হোক টাকা তাকে যোগাড় করতেই হবে। শোভন ওর বন্ধু সাইম, নাঈমকে সব ঘটনা বলে। তারা কিছু টাকা দেয়। তারপর শোভন তার টিউশনির কিছু টাকা অগ্রীম আনে। সবসময় সানিয়ার খোঁজ নেয় সে। সানিয়াকে শুধু এই কথাই বলে, "এটা কোনো করুণা নয়। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা। তোমাকে বাঁচতেই হবে।"
সানিয়াও শোভন কে ভালোবাসতে শুরু করে। সানিয়া বিশ্বাস করে শোভন কখনো ওকে ছেড়ে যাবে না। টাকার জন্য শোভন তার সবচাইতে প্রিয় গিটারটা বিক্রি করে দেয়। তার কাছে এখন সানিয়ার জীবনটাই বেশী দামি।
একদিন শোভন টাকাগুলো নিয়ে সানিয়াদের বাষায় যাচ্ছে। পথে কিছু মাস্তান তাকে খুব মারধোর করে। শোভন কিছুতেই টাকাগুলো ছাড়ে না। কারণ এটাই শেষ সম্বল। এর উপরই নির্ভর করে আছে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি ভালোবাসা। কিন্তু "কপালের লিখন না যায় খন্ডন।" শেষ চেষ্টা করেও শোভন টাকাগুলো রক্ষা করতে পারল না।

শোভন সেদিন বাষায় চলে যায়। পরে সানিয়া শোভনকে কল করে।
_কি খবর তোমার?
_এইত ভালো। তোমার অবস্থা কি?
_এইত। ওহ সু-সংবাদ টাকার জোগাড় হয়ে গেছে। ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। চাইলে আগামীকালই অপারেশণ শুরু করতে পারবা।

সানিয়া খুশীতে আত্মহারা। পরদিন যথা সময়ে অপারেশণ শুরু হয়। শোভনের জন্য অনেক্ষণ অপেক্ষা করে সানিয়া। শোভন আসে না। শেষে অভিমান নিয়ে অপারেশণ থিয়েটরে যায় সানিয়া। অপারেশণ সফল হয়। ভেবেছিল চোখ খুলেই শোভনকে দেখতে পাবে। কিন্তু না। একটু পর সাইম আসে। সানিয়া অনেক জানতে চাইলে শেষে বলে, "কোথাও কোনো টাকা না পেয়ে শেষমেষ শোভন তার কিডনী দুটো বিক্রি করে অপারেশণের টাকা যোগাড় করে।"
এই কথা শুনে সানিয়ার চিৎকার হাসপাতালের দেয়ালে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি তোলে। কিন্তু ততক্ষণে শোভন চলে গেছে না ফেরার দেশে। সানিয়া একবার বলতেও পারল না তার ভালোবাসার কথা। ফিরে পেয়েও পেল না। সত্যি শোভন তাকে ভালোবাসত। তার ভালোবাসায় কোনো খাঁদ ছিল না।
নিজের জীবন দিয়ে শোভন তার ভালোবাসা জয় করল। সে প্রমাণ করল- "সত্যিকার ভালোবাসা কখনো হারে না। চির অমর হয়ে থাকে।"
~I Love U, Sania~

|| End ||





Valobasar Joy Part - 2

Story : Valobasar Joy

Writer : Tariqul Islam Shovon


"তোর জন্য আমি বণ্য, মাতাল অনুভব জুড়ে সব শুন্য..."
মৃদু শব্দে গানটা শুনছিল শোভন।হঠাৎ তার মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল। ডিসপ্লেতে সানিয়ার নাম ভেসে উঠেছে। শোভন রিসিভ করল।
_হ্যাঁ, ম্যডাম বলুন।
_কি করছ?
_এইত গান শুনছিলাম। তুমি?
_তোমার কথা ভাবছিলাম। হি হি
_হুম।
_এই বিকালে দেখা করতে পারবা?
_উমম.. দেখি।
_দেখি কেন!!
_ব্যস্ত থাকলে তো দেখা করতে পারব না।
_আমার সাথে দেখা করতে গেলেই সব ব্যস্ততা। হুহ হুহ
_আচ্ছা ঠিক আছে। দেখা করব।
_সত্যি! তুমি না..
_কি আমি?
_বলব না। হি হি
_ unsure emoticon
এরকমই চলতে থাকে ওদের খুনসুটি। একজনকে ছাড়া অন্য জন যেন এক মূহুর্ত থাকতে পারে না। এদিকে শোভন ওর মনের কথাটা বলতে গিয়েও সাহসে কুলায় না। তো একদিন শোভন ভাবল যে, আজকে সব বলবে সানিয়াকে। যা হবার হোক।
পার্কে বেঞ্চের ওপর দুজনে পাশাপাশি বসে আছে। শোভনই আগে কথা শুরু করল।
_সানিয়া একটা কথা বলার ছিল তোমাকে।
_হুম বল।
_I Love U, Sania.
মূহুর্তেই সানিয়ার হাসি মাখা মুখটা কালো মেঘে ঢাকা পড়ল। সানিয়া কিছু না বলেই উঠে চলে যায়। শোভনের ডাকে ফিরেও তাকায় না সে। শোভন হতবাক!
কথাটা বললে যে সানিয়া এইভাবে রাগ করে চলে যাবে, তা শোভন বুঝতে পারেনি। অনেক ফেরানোর চেষ্টা করেছে সানিয়াকে। কিন্তু সানিয়া শোভনের কোনো কথাই শুনলো না। হঠাৎ করেই বুকের ভেতর শুন্যতা অনুভব করল শোভন। কিছুই ভাবতে পারছে না। নিজেকে বড় একা মনে হচ্ছে।
এদিকে বাষায় ফিরে সানিয়া খুব কান্না করছে। তা দেখে ওর মা কান্নার কারণ জানতে চাইল। সানিয়া কিছুই বলল না। হঠাৎ করে শোভনের কল আসে সানিয়ার মোবাইলে। কিন্তু সানিয়া রিসিভ করে না। সানিয়ার মা কলটা রিসিভ করে।
_হ্যালো কে?
_আন্টি, আমি সানিয়ার বন্ধু। সানিয়াকে একটু দেবেন প্লীজ?
_বাবা, সানিয়াতো এখন কথা বলতে পারবে না।
_আন্টি, ওকে খুব দরকার।
_আচ্ছা বাবা তুমি তাহলে আমাদের বাষায় আসো।
_আচ্ছা আমি এক্ষুণি আসছি।
শোভন দ্রুত সানিয়াদের বাষায় চলে যায়। সানিয়া তখনো কাঁদছে। শোভন সবকথা খুলে বলে সানিয়ার আম্মুকে। চুপচাপ সব শোনে সানিয়ার আম্মু এবং শোভন লক্ষ্য করে যে তার চোখে পানি। শোভন কেমন যেন একটা রহস্যের মধ্যে পড়ল।
তারপর সানিয়ার আম্মু যা বলল। তা শুনে শোভন নির্বাক হয়ে গেল। আর সানিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
আন্টির কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছে না। কি করে সম্ভব এটা?
সানিয়ারো ছিল খুব সুন্দর সাজানো একটা জীবন। আর ছিল পথচলার একজন সঙ্গী। সানিয়া ছেলেটাকে খুব ভালোবাসত। ছেলেটাও সানিয়াকে ভালোবাসত। সবসময় একজন আরেকজনের পাশে থাকত। কেউ কাউকে চোখের আড়াল হতে দিত না। একদিন সানিয়া অসুস্থ্য হয়ে পড়ল। ডাক্তার জানালো তেমন কিছু না। কিন্তু এভাবে প্রায়ই প্রচন্ড মাথা ব্যথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ত সানিয়া। ডাক্তার এক্স-রে করার পর জানায় সানিয়ার ব্রেণের পাশে একটা টিউমার আছে। যেটা অপারেশণ না করালে আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে অতিবাহিত হবে। অপারেশণ করাতে লাখ খানেক টাকা লাগবে। এত টাকা সানিয়ার পরিবার জোগাড় করতে পাড়বে না। যার সাথে সানিয়ার সারাজীবন থাকার কথা ছিল সেই আজ এই সমস্যার কথা জেনে সানিয়ার থেকে আস্তে আস্তে দূরে চলে যায়। ছেলেটার মুখ থেকেই সানিয়া তার অসুস্থ্যতার কথা প্রথম জানতে পারে। সানিয়া কথাটি মেনে নিতে পারেনি। সে ভেঙে পড়ে। তার পরিবার তাকে সবসময় হাসি-খুশী রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু সানিয়া তো জানে তার মৃত্যু বেশী দূর না। সেই থেকে সানিয়া তার অনিশ্চিত জীবনের সাথে কাউকে জড়াতে চায় না।............|

Valobasar Joy Part - 1

Story : Valobasar Joy

Writer : Tariqul Islam Shovon


মোবাইলে রিং বাজছে। সাইম হাতরে মোবাইলটা নিয়ে লাল রঙের বাটনে চাপ দিয়ে কলটা কেটে দিল। আবারো মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠলো। এবারো সাইম কলটা কেটে দিল। ৩য় বার আবার কল আসল। ঘুম ঘুম চোখে কলটা রিসিভ করে বলল,
_হ্যালো কে?
_কে মানে! আমি প্রজাপতি।
_কোন প্রজাতি?
_এবার কিন্তু বেশী বারাবারি হয়ে যাচ্ছে। প্রজাতি না প্রজাপতি। আর আজকে আমাদের দেখা করার কথা ছিল। আর তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো!
সাইমের ঘুম কিছুটা হালকা হল।
_ও প্রজাপতি তুমি? I am sorry বাবু। আচ্ছা আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি। ঠিক আছে।
প্রজাপতি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কলটা কেটে দেয়। সাইম তাড়াতাড়ি করে উঠে ফ্রেস হয়। তারপর গোছগাছ হয়ে নাঈমকে খুঁজতে থাকে। নাঈম হল সাইমের বন্ধু। পড়ালেখায় বেশ জিনিয়াস। বেশির ভাগ সময় একা একা উদাস মনে বসে থাকে। নাঈম এখন বারান্দায় বসে আছে। সাইম এসে বলল,
_নাঈম ১০০০টাকা দে।
নাঈমের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে সাইম। অনেকক্ষণ রাস্তায় দাড়িয়ে থেকে একটা রিক্সা পেয়ে উঠে পড়ল তাতে। ঐদিকে প্রজাপতি তো রাগে পুরা পেট্রোল বোমা। একটু পরই বিস্ফোরিত হবে। আবার কল দেয় সাইমকে। এদিকে সাইম জ্যামে পইড়া বইসা আছে। ষ্ক্রীণে প্রজাপতির নাম দেখে ভয়ে ভয়ে রিসিভ করে। ওপাশ থেকে চিরচেনা কন্ঠ বলে ওঠে,
_ ১০মিনিটের জায়গায় ১ঘন্টা হয়ে গেল। কৈ তুমি?
সাইম তার একটা হাত উপরে তুলে ফোনে প্রজাপতিকে বলল,
_ তোমার পিছনে। আমার হাত দেখতে পাচ্ছো?
প্রজাপতি পিছন ফিরে সাইমকে না দেখতে পেয়ে,
_ কৈ দেখি না তো।
_ আসলে বাবু, আমি জ্যামের মধ্যে আটকা আছি। ৫মিনিটের মধ্যে চলে আসব। সত্যি।
_ কি! তুমি জ্যামে বইসা আমার সাথে মজা নিতাছ? থাক, তোমার আসার দরকার নাই। আমি চললাম। আর দেখা করব না।
_ বাবু আমার ক...টুট.টুট.টুট
সাইম প্রজাপতিকে কল করল। ওপাশ থেকে মধুর সুরে বলল, "আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন,তা এই মূহুর্তে ব্যস্ত আছে.." রিক্সা থেকে নেমে হাঁটা শুরু করল। একটা গোলাপও কিনে নিল। কারণ গোলাপ প্রজাপতির খুব পছন্দের।
গোলাপটি পিছনে রেখে সাইম প্রজাপতির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রজাপতি অভিমানে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নেয়। এবার সাইম প্রজাপতির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে গোলাপটি প্রজাপতির দিকে এগিয়ে দেয়। গোলাপটি দেখে প্রজাপতির রাগ কিছুটা কমে। সে গোলাপটি নিয়ে সাইমের গালে ঠাস করে একটা চড় দেয়। সাইম হতভম্ব। তারপর প্রজাপতি সাইমকে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে,
_ তুমি খুব পঁচা। সবসময় আমাকে কাঁদিয়ে খুব মজা পাও তাই না!
_ আর এরকম হবে না। সরি।
_ চড়ে ব্যথা পাইসো?
_ একটু জোড়ে দিসো। সমস্যা নাই। tongue emoticon
তারপর দুজন দুজনকে ভালোবাসার আবেশে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
ঐদিকে শোভন। এও সাইম, নাঈমের বন্ধু। এরা তিনজন একসাথে থাকে। খুব মজবুত ফ্রেন্ডশীপ ওদের। শোভন রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। হঠাৎ করেই তার মনে হল মোবাইলে ব্যলেন্স নেই। রিচার্জ করা দরকার। তাই সে দোকানে গেল।
_ মামা একটা নাম্বার উঠাও। 01792055514 (কাল্পনিক) হুম মামা। ৫০টাকা দেও।
রাত হয়ে গেছে। সামিহাকে ফোন করতে যাবে।সে বুঝতে পারল মোবাইলে ব্যলেন্স নেই। অর্থাৎ দোকানদার এখনো টাকাটা পাঠায় নি।
আসলে সে বুঝতেও পারল না ভবিষ্যতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে!
যা ভেবেছিল তাই হল। টাকা রং নাম্বারে চলে গেছে। দোকানদার ভুল শোনায় 4 এর জায়গায় 5 দিছে। যা গেছে তো গেছে। পুনরায় নাম্বার উঠাইয়া টাকা পাঠাইয়া দিল দোকানদার। বাষায় ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ছাদে গেল শোভন। ও ভাবল ঐ নাম্বারটাতে কল দিয়ে দেখি, টাকাটা পাওয়া যায় কি না। শোভন কল করল। ওপাশ থেকে মেয়েলী একটা কন্ঠ ভেসে এল। অপূর্ব একটা কন্ঠ।
_কি হল কথা বলছেন না কেন! কাকে চাই?
_ইয়ে মানে, আসলে সকালে মোবাইলে রিচার্জ করতে গিয়ে ভুল করে টাকাটা আপনার নাম্বারে চলে যায়।
_হুম। বুঝলাম। তো কি করব এখন!!
_আসলে আমরা ষ্টুডেন্ট। বুঝেনইতো, আমাদের এক টাকা হারালেও কষ্ট লাগে।
_নাম কি আপনার? কিসে পড়েন?
_শোভন। ইন্টার 2nd ইয়ার। আপনি?
_আমি সানিয়া। আমরা সেইম ইয়ার।
_ওহ! ভালোই তো।
_কাল বিকাল ঠিক ৫টায় কলেজের সামনে আসবেন। ঠিক আছে?
_o..ok.
আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ওরা। তারপরদিন বিকাল ঠিক ৫টায় শোভন ওদের কলেজের সামনে দাড়ায়। কিছুক্ষণ পর সানিয়া আসে।
_দুঃখিত। আসলে একটা কারণে দেরী হয়ে গেল।
_না না ঠিক আছে।
_চলুন ক্যাফে গিয়ে বসি।
শোভন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানিয়ার দিকে। মায়াবী একটা চেহারা।
কিছুক্ষণ পর সানিয়াই নিরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করে। সানিয়া কফি খাচ্ছে। একটার পর একটা কথা বলছে আর হাসছে। শোভন যেন চোখ ফেরাতে পারছে না। এত সুন্দর হাসি যে কেউ এর প্রেমে পড়বে নিশ্চিত।
_কি ব্যপার কফি খাচ্ছেন না কেনো?
_ও হ্যাঁ, খাচ্ছি তো এই যে।
বলেই ষ্ট্রতে ঠোঁট লাগিয়ে লম্বা একটা চুমুক দিল।
_আচ্ছা আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?
_ইয়ে মানে, না।
_হাহাহাহা মিথ্যা বলছেন কেনো?
_আজিব! মিথ্যা কেন বলব? রিয়েলি নাই। যেই না চেহারা তার উপর আবার গার্লফ্রেন্ড।
_ঠিক বলছেন। আপনাকে দেখতে গাধার মতই লাগে। হাহাহাহা
আবার সেই মন ভুলানো হাসি। শোভন মুচকি হাসি দিলো। তারপর আর কিছুক্ষণ কথা বলে সানিয়াকে বাষায় পৌছে দিয়ে শোভন বাষায় আসলো। রুমে ঢোকার সাথে সাথেই সানিয়ার কল।
_হ্যাঁ বলো।
_বাব্বাহ! আপনি থেকে তুমি?
_হুম। তুমিও আমাকে তুমি করে বলবা।
_হুম। বাষায় পৌছাইছ?
_হুম। তুমি ঠিকমত গেছো তো?
_হুম। আচ্ছা রাতে কথা হবে। আম্মু রুমে চলে আসছে। Bye. Take Care
_Bye. Take Care
রাত ১০টায় ছাদে উঠলো শোভন। একটা গোল্ডলীফ ধরালো। একটান দিয়ে ফেলে দিলো। আজ মনটা খুব ভালো তাই সিগারেট খাবে না।...............